Logo
শিরোনাম :
উখিয়া প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা আদায়ঃ ৫ শতাধিক মাস্ক বিতরন নাইক্ষ্যংছড়িতে ২হাজার ২শ ৮০পিস ইয়াবাসহ আটক ১ মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণে মাঠে রয়েছে রামু উপজেলা প্রশাসন, ৫ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় ৩৫দিনেও টাকা পায়নি অতিদরিদ্র শ্রমিকরা উখিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ৮এপিবিএন’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান নয়নাভিরাম অভয়ারণ্য ও স্বচ্চ লেকের সৌন্দর্য্যের সংমিশ্রণ বাইশারীতে অগ্নিকান্ডে তুষের লাকড়ির মিল পুড়ে ছাই ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সেন্টমার্টিনে ট্রলার তল্লাশিতে মিলল ১২ লাখ ইয়াবা উখিয়ায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে কাল টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ আটক -৪
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

ভাসানচরের পথে ৭শ’ রোহিঙ্গা

রিপোর্টার : / ৬৪ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২

উখিয়া .

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নবম দফায় ভাসানচরের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন ৭০৫ রোহিঙ্গা। বুধবার (৫ জানুয়ারি) বেলা ১টার দিকে ৮টি বাসে ৪১৪ জন এবং বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে) ২৯১ জন রোহিঙ্গা নিয়ে ৭টি বাস উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের নেভাল ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সাথে ২ খালি বাস, মালামাল নিয়ে একাধিক কাভার্ডভ্যান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা টীমের বহর সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রামের পথে-ই ছিলো। গত ১৭ ডিসেম্বর (শুক্রবার) অষ্টম দফায় সাড়ে ৫শ’ রোহিঙ্গা উখিয়া ত্যাগ করার পর ১৮ নভেম্বর ভাসানচর পৌছান। এদের সাথে এবার রোহিঙ্গাদের একটি দল বেড়াতেও যাচ্ছে।

গত এপ্রিলে বর্ষায় যাত্রা স্থগিত করার পর ইউএনএইচসিআর ও সরকারের মাঝে ভাসানচরে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হওয়ার পর ২৪ নভেম্বর প্রথমবার এবং ১৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার রোহিঙ্গা যাত্রা হয়। আর তৃতীয় দফা ৭শতাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার ত্যাগ করেছে ৫ জানুয়ারি।

ভাসানচরে থাকার উদ্দেশ্যে যারা যাচ্ছে তারা ছাড়াও ৭০-৮০ জন রোহিঙ্গা সেখানে বেড়ানোর জন্য যাচ্ছে। তাদের আলাদা দু’টি বাসে করে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা স্থানান্তরে যুক্ত একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, ভাসানচরে যাবার উদ্দেশ্যে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে মঙ্গলবার বিকাল থেকে সরঞ্জামসহ সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা। বুধবার সকালেও আসে অনেকে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাসে ওঠা শুরু করে রোহিঙ্গারা। এরপর ১টার দিকে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে প্রথম বহর চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয়। আর দ্বিতীয় বহর যাত্রা করে বিকাল সাড়ে ৪টায়। পূর্বের নিয়মে রাতে চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে অবস্থান করবেন তারা। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে যাবার প্রস্তুতি রয়েছে।

কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, সরকারের সিদ্ধান্তে উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্প থেকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা ভাসানচর স্থানান্তর হবে। কাউকে জোর করে নয়, সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানোর পর যারা স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হচ্ছেন তাদের জড়ো করে নির্ধারিত একটি দিনে পৌছে দেয়া হচ্ছে। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ যাত্রা চলমান থাকবে। নবম দফায় ৭শতাধিক রোহিঙ্গা ভাসানচর যাবার পথে রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝিদের মতে, ভাসানচর যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা স্ব-স্ব ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে নাম জমা দেন। ভাসানচরের পরিবেশ, থাকা খাওয়ার সুবিধা সম্পর্কে ব্রিফিং করার পর যারা যেতে রাজি হচ্ছে তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

তাদের মতে, বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের জীবন। যেখানেই থাকি সেটা মানবিক সহায়তা। কিন্তু ভাসানচরে বন্দি জীবন মনে করে অনেকে যেতে চান না। কিন্তু সম্প্রতি ভাসানচরের রোহিঙ্গারা চাইলে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে থাকা স্বজনদের দেখতে আসতে পারবে, সরকারের এ ঘোষণার পর ভাসানচর মুখী মানুষের সংখ্যা আবার বাড়ছে। বুধবার ৭০-৮০ জন রোহিঙ্গা বেড়ানোর উদ্দেশ্য ভাসানচর যাচ্ছে।

কক্সবাজার-১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) নাইমুল হক নাইম জানান, দুভাবে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের আরো একটি দল বুধবার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি সময় পর্যন্ত আট দফায় প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরের অধিবাসী হয়েছে। এরা ছাড়াও গত বছরের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টাকালে ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আগের ও তখনকার মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছে। ওই বছরের নভেম্বরে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর