Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

সপ্তম দফার প্রথমদিনে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ৯টি বাসে ৩৭৯ রোহিঙ্গা

রিপোর্টার : / ৬৩ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তরের সপ্তম ধাপের প্রথম পর্য়ায়ে রওনা দিয়েছেন ৩৭৯ জন রোহিঙ্গা নর নারী। মোট পরিবার ছিল ১৬৮। সপ্তম ধাপের প্রথম পর্যায়ে রওনা দিয়েছে ১২৬ রোহিঙ্গা পরিবার। পরে বিকেলে আরও ৪২ পরিবারের ১২২জন রোহিঙ্গা তিনটি বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

বুধবার(২৪ নভেম্বর) সকালে ও বিকেলে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প হতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ৯টি বাস,২টি এক্সট্রা বাস,এ্যাম্বুলেন্স পুলিশী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিকেলে পুলিশী নিরাপত্তায় আরও ১২২জন রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

সপ্তম ধাপের প্রথমদিন ৩৭৯জন রোহিঙ্গা শরণার্থী চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়। পরে তাদেরকে চট্টগ্রাম থেকে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেডমাঝি মোহাম্মদ হাবিব বলেন তার ক্যাম্প থেকে ৫ পরিবারের ৯ জন রোহিঙ্গা নর নারী নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
উখিয়া বালুখালী ক্যাম্প ইনচার্জ (সহকারী সচিব) মো. আরাফাতুল আলম বলেন , ওই ক্যাম্পের চার পরিবারের ১১ জন সদস্য ভাসানচরে যেতে উখিয়া ডিগ্রি কলেজে অবস্থান করছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) উখিয়ার নেত্রী জামালিদা বেগম জানান, তার শিবির থেকে পাঁচ পরিবারের ২৮ জনের একটি রোহিঙ্গা দল স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ক্যাম্প ত্যাগ করেছে। তাদেরকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে নিজ কার্যালয়ে গুলি করে এআরএসপিএইচ-এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়। এরপর ২২ অক্টোবর রাতে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ছয় জন নিহতের ঘটনায় ক্যাম্পের বাসিন্দারা আতঙ্কে আছে। তাই বেশিরভাগ রোহিঙ্গা ভাসানচরে চলে যাচ্ছে।

ভাসানচরের আরআরআরসি প্রতিনিধি ও ক্যাম্প ইনচার্জ (সহকারী সচিব) নওশের ইবনে হালিম জানান, বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের দলটি ভাসানচরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল উদ্দিন বলেন , রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ও সিক্স মার্ডারের পর ক্যাম্পের অনেকের আতঙ্কে দিন কাটছিল। তাই এবার রোহিঙ্গারা ভয়ে ভাসানচরে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পাশপাশি ভাসানচরের কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ায় তাদের মাঝে ভাসানচরে যেতে উৎসাহ কাজ করছে। ক্যাম্পে থেকে ইতোমধ্য কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার ক্যাম্প ত্যাগ করেছে।

উখিয়া ক্যাম্পে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজারের আর্মড পুলিশ-১৪ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) নাইমুল হক জানান, এবার ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ১৮শ’ থেকে দুই হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের টার্গেট রয়েছে।

২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় এক হাজার ৬৪২ জন, ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ৮০৪ জন, চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফার তিন হাজার ২৪২ জন, ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় তিন হাজার ১৮ জন এবং পঞ্চম দফায় ৩ ও ৪ মার্চ চার হাজার ২১ জন, ষষ্ঠ দফায় ১ ও ২ এপ্রিল চার হাজার ৩৭২ জন রোহিঙ্গা রোহিঙ্গাকে ভাসানচর স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের মে মাসে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর