Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

উখিয়ায় আওয়ামীলীগের জয়জয়কার

রিপোর্টার : / ৫২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১

কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের তিনটি উপজেলার ২১ ইউনিয়নে নির্বাচনের মধ্যে ১৯ টির ফলাফল বেসরকারীভাবে ফলাফল ঘোষনা করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। নির্বাচনী সহিংসতা ও ব্যালেট বক্সছিনতােইয়ের চেষ্টার কারণে দুটি ইউপির দুটি ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত রয়েছে। ফলে ওই দুই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষনা করা হয়নি। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সদরের ৫ টির মধ্যে ৩ টিতে নৌকার প্রার্থী জয়ী হয়েছে, উখিয়ার ৫ টি ইউপির ৩ টি আওয়ামীলীগ জয়ী হয়েছে। তবে রামুর ১১ ইউপি’র ৪ টি তে আওয়ামীলীগ এবং ৬ টিতে কক্সবাজার -রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের অনুসারী বিদ্রোহী প্রার্থী এবং অপরটিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার জেলার ২১ ইউপি’র ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। তৎমধ্যে ১৯ ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে।

কক্সবাজার সদরের ৫টি ইউনিয়নের ঝিলংজা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ৮৬৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে দ্বিতীয়বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি জামঅযাত নেতা আবুল কাশেম পেয়েছেন ৪৩৩০ ভোট। ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী কামাল উদ্দিন ৪৫৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটমত প্রতিদ্বন্দি আমিনুল হক ৩৫০৯ ভোট পেয়েছেন। ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি মুজিবুর রহমান ৬২১১ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জিয়াউল হক পেয়েছেন৪৯৪১ ভোট।

এছাড়া পিএমখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ৫১৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সৈয়দ নূর।

অপরদিকে খুরুশকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান ছিদ্দিকী খুরুশকুলে ১১টি কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৬শ ভোটে এগিয়ে আছেন। তবে স্থগিত কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ২ হাজার ৬৪৪।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সদর উপজেলার ৫ ইউনিয়নে মোট ৫৭টি কেন্দ্রের ৫৬টিতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে।

রামু উপজেলার ১১ টি ইউপি নির্বাচণে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ৪ টি ইউনিয়নে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা ৭ টি ইউনিয়নে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে।
বেসরকারি ফলাফলে জানা যায়, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী ও কক্সবাজারর – রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের অনুসারী সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো (আনারস) ৬ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী (নৌকা) ৪ হাজার ৭৩৩ ভোট পেয়েছেন।

ঈদগড় ইউনিয়নে এমপি কমলের অনুসারী রামু উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো (আনারস) ৪ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আলম (নৌকা) ৩ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছেন।

গর্জনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল (নৌকা) ৪ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মৌলা চৌধুরী (মোটর সাইকেল) ২ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়েছেন।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে এমপি কমলের অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান (আনারস) ৩ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত নেতা মো. তৈয়ব উল্লাহ (চশমা) ৩ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়েছেন।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে এমপি কমলের অনুসারী সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান শামশুল আলম (মোটর সাইকেল) ২ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওসমান সরওয়ার মামুন (নৌকা) ২ হাজার ৭৫০ ভোট পেয়েছেন।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স (নৌকা) ৪ হাজার ৫৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবছার কামাল সিকদার (মোটর সাইকেল) ৩ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়েছেন।

রাজারকুল ইউনিয়নে এমপি কমলের অনুসারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান (ঘোড়া) ৫ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরওয়ার কামাল সোহেল (নৌকা) ৩ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়েছেন।

দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোদেস্তা বেগম রীনা (নৌকা) ৬ হাজার ৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ ভূট্টো (টেবিল ফ্যান) ৩ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়েছেন।

চাকমারকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার (নৌকা) ৩ হাজার ৯৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী নুরুল আলম (আনারস) ৩ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন।
রশিদনগর ইউনিয়নে এমপি কমলের অনুসারী ও ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম ডি শাহ আলম (আনারস) ৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত মো. হান্নান সিদ্দিকী (মোটর সাইকেল) ৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হক (চশমা) বেসরকার ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ (নৌকা)।

উখিয়া উপজেলার ৩ টি নৌকা , একটিতে স্বতন্ত্র জয়ী হয়েছে । অপরটি স্থগিত রয়েছে।
এরমধ্যে জালিয়াপালং ইউপিতে ছৈয়দ আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ বিএনপি ঘরানার নুরুল আমিন চৌধুরী ৫ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়েছেন। রত্নাপালং ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে নূরুল হুদা ৭ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ বিএনপি ঘরানার ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নুরুল কবির চৌধুরী ৫ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।হলদিয়াপালং ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরুল কায়েস চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি নৌকা প্রতীকের অধ্যক্ষ শাহ আলম ৭ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়েছেন। তবে ১টি কেন্দ্র স্থগিত রয়েছে। সেখানে নৌকা সমর্থক ভোটার বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।রাজাপালং ইউপিতে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৭ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি ঘরানার সাদমান জামী চৌধুরী ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ৪৭৪ ভোট পেয়েছেন।পালংখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল মালেক চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৯ ভোট, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল মনজুর পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৮ ভোট। আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন জুয়েল আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩২ ভোট ও আলী আহমদ মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৬ ভোট।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস. এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, স্থগিত কেন্দ্র দুটি ভোট গ্রহনের তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে। বাকি ১৯ টি ইউয়িনের ফলাফল ঘোষনা করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর