Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় ১০ জন আটক

রিপোর্টার : / ১৬৭ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১

উখিয়ার বালুখালীর ক্যাম্পে মসজিদে জড়ো করে ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে গুলি ও কুপিয়ে নিহতের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছেন ৮ এপিবিএন সদস্যরা। ঘটনার পর পরই অস্ত্রসহ ১ জন ও গতকাল শনিবার একাধিক অভিযান চালিয়ে আরো ৯ জনকে আটক করা হয় বলে জানা যায়।আটকদের মাঝে তিন জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন ৮ এপিবিএন অধিনায়ক মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান,পিপিএম।
এ ঘটনায় নিহত আজিজুল হকের পিতা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ২৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০/২৫০ জনের বিরুদ্ধে শনিবার উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর পরই এপিবিএন অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া ক্যাম্প -১১ এর আবুল কালামের ছেলে মুজিবুর রহমান(১৯) ১টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ছুরি সহ গ্রেফতার করা হয়। এদিকে শুক্রবার রাতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য ক্যাম্প-১৮ এর একটি কবরস্থানে ৫ জনকে এবং ক্যাম্প-১১ এর একটি কবরস্থানে অপর একজনের নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

৮ এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃত মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে উখিয়া থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে – ১১ নং ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে মুজিবুর রহমান (১৯), ৮/ ওয়েস্ট ক্যাম্পের আবু তৈয়বের ছেলে দিলদার মাবুদ প্রকাশ পারভেজ (৩২), একই ক্যাম্পের ছৈয়দ আহম্মদের ছেলে মোঃ আয়ুব (৩৭), ৯ নং ক্যাম্পের নুর বশরের ছেলে ফেরদৌস আমিন (৪০), ঐ ক্যাম্পের মৌলভী জাহেদ হোছেনের ছেলে আবদুল মজিদ (২৪)।
উক্ত হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আটকরা হচ্ছে, ১৩ নং ক্যাম্পের আলী আহাম্মদের ছেলে মোঃ আমিন (৩৫), ঐ ক্যাম্পের আবু ছিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে ফয়েজ(২৫), ১২ নং ক্যাম্পের ইলিয়াছের ছেলে জাফর আলম(৪৫), ১০ নং ক্যাম্পের ওমর মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ(৪০), ১৩ নং ক্যাম্পের নজির আহাম্মদের ছেলে মোহাম্মাদ আমিন (৪৮)।
বৃহস্পতিবার ভোরে উখিয়ার ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় এক দল দুর্বৃত্ত মুখোশ পরে এসে অকস্মাত্ এলােপাতাড়ি গুলি চালায়। এরপর গুলিবিদ্ধদের কুপিয়ে এবং জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত বেশ কয়েকজনের হাতের আঙুলসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিহতদের শুক্রবার রাতেই স্ব স্ব ক্যাম্প এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত স্বজনদের দাবি, মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী কথিত আরসার সন্ত্রাসীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় আরসা (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত) কথিত সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রচারণা করা যাবে না বলে সংগঠনটির কয়েকজন নেতা হুমকি দিয়েছিলেন।
কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গারা হুমকি উপেক্ষা করে কথিত আরসার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে বিভিন্ন সময় মহল্লাভিত্তিক বৈঠক করেন।
বিভিন্ন বৈঠকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের একীভূত হয়ে থাকতে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রেখেছেন শুক্রবার নিহতদের মাঝে বেঁচে থাকা হাফেজ মো. ইদ্রিসসহ আহতদের কয়েক জন।
রোহিঙ্গাদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সব মাদ্রাসা কথিত আরসা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি মাদ্রাসা পরিচালনায় দুজন আরসা সদস্যকে কমিটিতে রাখার প্রস্তাব দেয় তারা (আরসা নেতারা)। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তাতে রাজি হননি। যদিও ইতিমধ্যে অনেক মাদ্রাসা আরসার নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে সূত্রটি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর