Logo
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্কাসের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ডিজি ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৪ রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার উখিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় গ্রাম্য চিকিৎসক আহত নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত এম এ মন্জুর ভালোবাসায় সিক্ত হন অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম নৌকার মনোনয়ন নিয়ে এসে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত চেয়ারম্যান টিপু সুলতান রাজাপালংয়ে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সমর্থনে শোকরানা ও পথ সভা অনুষ্ঠিত খরুলিয়ার গণি বৈরাগী সোয়া ৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আবারো প্রার্থী হয়েছি : ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

রিপোর্টার : / ১১৪ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

শহিদুল ইসলাম

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪ টি রোহিঙ্গা শিবির রয়েছে। এখানে বসবাস করছে সাড়ে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বসতি। দীর্ঘদিন পর হলে ও জাতিসংঘ নোয়াখালীর ভাসানচর কে মেনে নিয়ে মানবিক সহায়তার সব দায়িত্ব নেয়ার তাদের এখন সেখানে বসবাসে কোন অসুবিধা নেই। ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর চুক্তি সই হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত সাধারণ রোহিঙ্গারা। মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২ /ইস্ট ও ক্যাম্প ১৭ তে স্থানীয় রোহিঙ্গা, মাঝি ও কমিউনিটি লিডার ফোকাল নেতৃত্বে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে হাজারো সাধারণ রোহিঙ্গা অংশ নেন।

এ সময় বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে স্লোগান দেন তাঁরা। মিছিলে রোহিঙ্গাদের হাতে লেখা “স্বাগত জাতিসংঘ”, “ধন্যবাদ বাংলাদেশ ” সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন। মিছিল শেষে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা নিজেদের মাঝে মিষ্টি বিতরণও করেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া ২ /ইস্ট ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আমিন (৩৬) বলেন, “ভাসানচরে জাতিসংঘ কাজ করবে শুনে আমরা আনন্দিত, আশা করছি এখন আগের তুলনায় অধিক রোহিঙ্গা ভাসানচরে যেতে আগ্রহী হবে। ”

রোহিঙ্গা যুব সংগঠনের বিবৃতি:
এ দিকে রোববার একইদিনে ভাসানচরে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ-জাতিসংঘ স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রোহিঙ্গাদের একটি যুব সংগঠন।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন নামে সংগঠনটির বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ কে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, শিক্ষা সহ বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ জানানো হয়।

বিবৃতি প্রসঙ্গে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কিন মং বলেন, “আমরা চুক্তিটিকে স্বাগত জানাচ্ছি, পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি দ্বীপটিতে যেন রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, জীবিকার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা সহ বিভিন্ন অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়। ”

এ ছাড়াও বিবৃতিতে ভাসানচর থেকে রোহিঙ্গারা যেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াতের সুযোগ পায় সে দাবিও উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান কিন মং।

শনিবার ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন। সচিবালয়ে সরকারের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন এবং ইউএনএইচসিআরের পক্ষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি উহানেন্স ভন ডার ক্লাও সমঝোতা স্মারকে সাক্ষর করেন।

এ সমঝোতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে ভাসানচরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, মিয়ানমারের ভাষায় পাঠক্রম ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকায়নের ব্যবস্থা করবে।

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে ভাসানচরে ১৮ হাজার রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে এতদিন ভাসানচরে স্থানান্তর সাময়িক বন্ধ ছিল। আগামী মাসের মধ্যে ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জ (উপ সচিব) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন , শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের চুক্তির পর ভাসানচরে ১ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে সংস্থাটি। রোহিঙ্গারা এতে খুশি। তাই তারা ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন অনেক শান্ত।
সরকার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ওপর থেকে চাপ কমাতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ছয় দফায় ১৮ হাজার ৫২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ৮ হাজার ৭৯০ জন। নারীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৯ জন ও পুরুষের সংখ্যা ৪ হাজার ৪০৯ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর