Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

বাঁকখালী নদী ড্রেজিংয়ের ১৯৫ কোটি টাকাই জলে!

রিপোর্টার : / ৬১ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১

 

জসিম উদ্দিন:

বর্ষাকালে বন্যা ঠেকাতে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীকে ড্রেজিংয়ের আওতায় আনা হয়। কিন্তু ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেই ড্রেজিং যেনতেনভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ম্যাপ অনুযায়ী বাঁকখালী নদী ড্রেজিং করা হয়নি। নদী থেকে তোলা বালুর কিছু অংশ টেন্ডারবিহীন বিক্রি করা হয়। তবে অধিকাংশ বালুই অপরিকল্পিতভাবে নদীর পাশে ফেলে রাখা হয়। এ কারণে মৌসুমের প্রথম বর্ষণের ঢলে সেসব বালু আবার নদীতেই তলিয়ে গেছে। ফলে কাজে আসছে না প্রায় ২০০ কোটি টাকার ড্রেজিং। তবে অনিয়মের দায়ভার নিতে রাজি নন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য ২০১৬ সালে প্রায় ১৯৫ কোটি ৫৪৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য- বাঁকখালী নদী ড্রেজিং ও খনন করে নদীর নাব্য বাড়ানোর মাধ্যমে নৌচলাচলের পথ সুগম করা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদী ভাঙনের হাত থেকে ঘরবাড়ি রক্ষা করা। প্রকল্পে ২৮ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং ছাড়াও ৪ দশমিক ৬৫০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, তিন কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ/পুনরাকৃতিকরণ, দুটি রেগুলেটর নির্মাণ ও ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। ২০১৬ সালের জুনে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ জুনে শেষ হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কাজ শেষে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প এটি। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দুই উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। বন্যা থেকে রক্ষা পাবে রামু সদরের তিন লাখ মানুষ। পাশাপাশি নদী ভাঙনের হাত থেকে রেহাই পাবে অন্তত দুই হাজার পরিবার। কিন্তু অপরিকল্পিত ও যেনতেনভাবে ড্রেজিংয়ের কাজ করায় হতাশ ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, বাঁকখালী নদী ড্রেজিংয়ে পুকুর নয়, সাগর চুরি করা হয়েছে। ড্রেজিংয়ে পুরো টাকায় অপচয় বলে মনে করেন তারা।স্থানীয়রা জানান, ম্যাপ অনুযায়ী নদী ড্রেজিং না করায় ড্রেজিংয়ের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া ড্রেজিং করে নদী থেকে তোলা বালু নদীর পাড়ে রাখা হয়। ফলে মৌসুমের প্রথম বর্ষণে যেসব বালু আবার নদীতে তলিয়ে গেছে।সদরের পিএম খালীর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রহিম বলেন, আমার এলাকায় যেটুকু নদী খনন করা হয়েছে তা আবারও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সুফল পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে না। রামু উপজেলার ফাঁতেখারকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, আমার ইউনিয়নে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বাঁকখালী নদী বয়ে গেছে। সেখানে সংশিষ্টরা তাদের ইচ্ছেমতো যেনতেনভাবে ড্রেজিং করেছে। অনেক স্থানে ড্রেজিং করা হয়নি- দাবি করে তিনি বলেন, সুফল তো দূরের কথা টানা কয়েকদিন ভারি বৃষ্টি হলে বন্যা অনিবার্য। পুনরায় পরিকল্পিতভাবে নদী খননের দাবি জানান তিনি।

রামু কাউয়ারকূপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদের দাবি- ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের পরও আগে যা ছিল তাই। তার দাবি নদী থেকে উত্তোলন করা বালি নদীতে তলিয়ে গেছে। ফলে ভারি বর্ষণে আগের মতোই বন্যা হবে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরেজমিন গিয়ে বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং ঘিরে নানা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। নদী থেকে তোলা বালু নদীর পাড়ে রাখায় প্রথম বর্ষণে সেসব বালু তলিয়ে গেছে। ফলে আগের মতোই রামুতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, আমি সংশ্লিষ্টদের পুনরায় নদী ড্রেজিং করার জন্য বলেছি। সমস্যাগুলো জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

জানতে চাইলে বাঁকখালী ড্রেজিংয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সরওয়ার আলম বলেন, এসবের দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমাদের যা করার আমরা করেছি। অবৈধভাবে বালু বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করলেও বিপরীতে সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, বালু রাখার মতো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীর কাছাকাছি স্থানে বালু রাখতে হয়েছিল। বালু নদীতে তলিয়ে যায়নি দাবি করে তিনি বলেন, বন্যার আশঙ্কা করা ভুল ধারণা। এরমধ্যে স্থানীয়রা ড্রেজিংয়ে সুফল পাচ্ছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গোপনে বালু বিক্রির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজুল কাদের চৌধুরী মতে, বাঁকখালী নদী ড্রেজিংয়ে পুকুর নয়, সাগর চুরি করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের মতো নদী খননে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং খনন পরিবর্তী পরিমাপ, যাচাই-বাছাই ছাড়া নদী ড্রেজিং মানে অর্থ অপচয় করা।এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, নদীর পাড়ে রাখা বালু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি বালি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সূত্র যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর