Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

কক্সবাজার প্রতিনিধি।। / ৪৯ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

 

 

অবশেষে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কক্সবাজারের সব ধরনের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। পহেলা এপ্রিল (১ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সকল পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ঘোষণার পরপরই বীচ এলাকায় প্রবেশরোধে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল হতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেন্টমার্টিনে পর্যটনবাহি জাহাজগুলো। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে সৈকতের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের বসার জন্য সাজানো কিটকট চেয়ার। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার শহরে গণজমায়েত রদ, যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রিবহন রোধসহ সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন এবং পর্যটনস্পট গুলোতে কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটগণ। একই ভাবে মাঠে নামে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশও।

দেশের ৩১ জেলায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় এ ৩১ জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মাঝে অন্যতম পর্যটননগরী কক্সবাজার। গত মার্চ মাসে নতুন করে ৫১৯ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। ৩১ মার্চ একদিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ জন। এদের মাঝে ৪১ জন কক্সবাজারের বাসিন্দা। রোহিঙ্গা আক্রান্ত হয়েছে একজন। বাকি একজন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার। ফলে, ধীরে ধীরে সংকোচিত করে ফেলা হচ্ছিল পর্যটন স্পটে বেড়ানো।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান  জানান, গত এক মাসের পরিসংখ্যান মতে ১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজারের মোট ১৩ হাজার ৭৭ জন পরীক্ষার আওতায় এসেছেন (গড়ে প্রতিদিন ৪২২জন)। এর মাঝে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ৫১৯ জনের। কক্সবাজারে করোনা পরিস্থিতি কঠিনের দিকে যাচ্ছে। এ মূহুর্তে সকলের সচেতন হওয়া খুবই জরুরী।

সিভিল সার্জন আরো জানান, গেল ২০২০ সালের পহেলা এপ্রিল হতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের তিন ল্যাবে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার-বান্দরবান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের এক লাখ ২১ হাজার ৪৫ জনের পরিক্ষা করা হয়। এতে পজেটিভ হয়েছেন ৭ হাজার ৯৪২ জন। কক্সবাজার জেলায় পরীক্ষার আওতায় আসা ৬৯ হাজার ৯০৯ জনে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ১৫৮ জন। এ হিসেবে কক্সবাজারে আক্রান্তের হার প্রায় ৯শতাংশ। বান্দরবান জেলা ৫ হাজার ৪৭০ জনে পজেটিভ হয়েছেন ৮৮৬ জন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১১ হাজার ৩৩৯ জনে পজেটিভ হয়েছেন ৪২৭ জন। রোহিঙ্গাদের ৩৪ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার আওতায় এসেছেন। তাদের মাঝে পজেটিভ এসেছে ৪৭১ জন। করোনার শুরু হতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলায় মারা গেছেন ৮৩ জন। এর মাঝে রোহিঙ্গা রয়েছেন ১০ জন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ  বলেন, সরকারের জারি করা ১৮ নির্দেশনা মতো সৈকতে পর্যটক সমাগম সীমিত করতে গত কয়েকদিন কাজ করেছি। সৈকতে জনসমাগম অতিরিক্ত হতে দেয়া হচ্ছিল না। কাজ করছিল একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপরও ঠেকানো যাচ্ছিল না করোনার প্রাদূর্ভাব। ফলে, পর্যটন শিল্পের স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে আপাত ১৪ দিনের জন্য কক্সবাজারের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হলো। করোনা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ডিসি।

উখিয়া কন্ঠ /শ/ই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর