Logo
শিরোনাম :
উখিয়ায় ২জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৪জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার ক্লাইমেট চেন্জে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ : স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা উখিয়ায় ৬ খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৪ উখিয়ায় সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস)’র কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার উদ্বোধন জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সর্মথনে এক নির্বাচনী মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় ১০ জন আটক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ খুনের ঘটনায় থানায় মামলা বিএফইউজের নেতৃত্বে ফারুক-দীপ, সর্বোচ্চ ভোটে সদস্য হলেন দেশ রূপান্তরের সুইটি রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছে আজিজুল চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামী চৌধুরীর ব্যাপক গণসংযোগ
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

বিজয়ের মাস শুরু

ডেস্ক রিপোট / ১৩২ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

facebook sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক পরিক্রমায় বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন পূরণ হয় এ মাসে।

শুরু হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাঙালির নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পূর্ণতা পেতে শুরু করে ডিসেম্বরের শুরু থেকে। মাসের প্রথম দিন থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পিছিয়ে আসতে থাকে পাক হানাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারাও এগুতে থাকেন রাজধানী ঢাকার দিকে। একে একে বিভিন্ন রণাঙ্গনে উড়তে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার সাক্ষর এবারের বিজয়ের মাস করোনা আবাহর মধ্যেও নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ঘটনা হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক পরিক্রমায় বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন পূরণ হয় এ মাসে।

দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ আর বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর আসে বিজয়। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জিত হয় নিজস্ব ভূ-খন্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ মাসে।

তবে সংগ্রামের পথ কখনোই মসৃণ ছিলো না। তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জনের বেদনাবিঁধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর। এ মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান- বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার এমন ঘৃণ্য কাজের নজির বিশ্বে আর নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদাররা। চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে তাদের পরাজয়ের বার্তা।

যৌথবাহিনীর একের পর এক আক্রমণের মুখে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে দখলদারা। একাত্তরের ৭ মার্চ এই ময়দানেই স্বাধীনতার ডাক দিয়ে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই স্থানেই পরাজয়ের দলিলে সই করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এ দিন পূর্ণতা পায় বিজয়ের মাধ্যমে। শেষ হয় হাজার বছরের বঞ্চনার ইতিহাস।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী অপারেশন জ্যাকপটের নামে নিরস্ত্র জনগণের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে বাঙালির ওপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। ওই রাতেই পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু। তবে তার আগেই নির্দেশ দিয়ে যান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর। তার ডাকে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। ২৫ মার্চ রাতেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

১ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে শিখা চিরন্তন ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহজাহান খানের নেতৃত্বে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন চত্ত্বরে সমাবেশ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও শপথ গ্রহণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা ভবনে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভারও আয়োজন করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ বরাবরের মতোই ১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।

জাসদ ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটি সকাল ৮টায় মিরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবরস্থানের বাইরের চত্বরে আলোচনা সভার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর