Logo
শিরোনাম :
উখিয়ায় ২জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৪জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার ক্লাইমেট চেন্জে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ : স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা উখিয়ায় ৬ খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৪ উখিয়ায় সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস)’র কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার উদ্বোধন জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সর্মথনে এক নির্বাচনী মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় ১০ জন আটক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ খুনের ঘটনায় থানায় মামলা বিএফইউজের নেতৃত্বে ফারুক-দীপ, সর্বোচ্চ ভোটে সদস্য হলেন দেশ রূপান্তরের সুইটি রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছে আজিজুল চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামী চৌধুরীর ব্যাপক গণসংযোগ
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

ভাসানচরে যাবে ৫শ’ পরিবারের ১২০০জন রোহিঙ্গা

আবদুল আজিজ: / ১৫৭ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভাসানচরে যাবে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত ৫শ’ রোহিঙ্গা পরিবারের ১২শ’র বেশী রোহিঙ্গা। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে অনুষ্ঠিত সভার কথা স্বীকার করলেও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পাঠানো এবং ঠিক কতজন রোহিঙ্গা যাচ্ছে সে বিষয়ে কোন তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: সামছু দৌজা।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারকে ভাসানচরে নেবার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় (আরআরআরসি)। এই ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভাসানচরে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার ‘আরআরআরসি’র এক অভ্যন্তরীন সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এই ৫০০ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১২০০ এরও বেশি। আবহাওয়া জনিত কারণে ৩ ডিসেম্বর তারিখটি পরিবর্তন হলেও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়া শুরু হবে। একই সাথে ২৩টি দেশি এনজিও রোহিঙ্গাদের সাথে ভাসানচরে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: সামছু দৌজা কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে ‘আরআরআরসি’ অফিস সবসময় প্রস্তুত। এটি ভাল খবর। কিন্তু, কখন, কিভাবে এবং কতজন রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাবে সে তথ্য আমার কাছে নেই। তবে সরকারের নির্দেশে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানে ‘আরআরআরসি’ অফিস কাজ করে যাচ্ছে।’ বৈঠকের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে আরও বলেন, এটি আমাদের নিয়মিত বৈঠকের অংশ। সভায় অনেক কিছুই তো আলোচনা হয়। যদি রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানো হয়, তাহলে অবশ্যই সাংবাদিকদের জানানো হবে।’

‘আরআরআরসি’ অফিসের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ‘ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা নেতাদের একটিদল ভাসানচর ঘুরে এসেছেন। তাদের মাধ্যে কোন কোন রোহিঙ্গা নেতাদের মতবিরোধ দেখা দিলেও বেশীরভাগ রোহিঙ্গা নেতা ও সাধারণ রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে প্রস্তুত। একারণে প্রথম ধাপে ৫শ’ পরিবারের ১২শ’জনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শুরুতেই এসব রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার জন্য ২৩টি এনজিও ভাসানচরে যেতে প্রস্তুতি নিয়েছে।

এদিকে, নতুন রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে ভাসানচরে পাঠাতে মঙ্গলবার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে ভাসানচরের জন্য ফুড ও নন ফুড আইটেম চাহিদাপত্রের নমুনা সংযোজিত হয়েছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন এনজিও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পর সম্ভাব্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্প (ফুড ও নন ফুড) জমা দেওয়ার কথা সরকারকে জানিয়েছে।

চলতি মাসের গত ১৬ নভেম্বর ২২টি এনজিওর কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভাসানচর ঘুরে এসে জানিয়েছিলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের খুবই উপযোগী পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখানে তাদের স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন এবং জীবিকাসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। কক্সবাজারে বর্তমানে যেভাবে রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছে, তার চেয়ে অনেক ভালো থাকবে ভাসানচরে।

সম্প্রতি ভাসানচর পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ভাসানচরে নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ দেখভাল করছে। ফলে সেখানে পুলিশের একটি ব্যাটালিয়ন নির্মাণ করা হবে। আরও নিরাপত্তা বাড়াতে দ্বীপ ঘুরে দেখে সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

২০১৫ সালে প্রথম ভাসানচরে শরণার্থীদের বসবাসের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেসময় চরটিতে কোনও জনবসতি ছিল না। ২০১৭ সালের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধির পর মিয়ানমার থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় পালিয়ে আসে। এরপর কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে ভাসানচরে অবকাঠামো গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসাবে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আশ্রয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সেখানকার ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ এবং এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এক সভায় ভাসানচরের জন্য নেওয়া প্রকল্পের খরচ ৭৮৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। বাড়তি টাকায় বাঁধের উচ্চতা ১০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৯ ফুট করা, আনুষাঙ্গিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণে খরচ হবে।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এছাড়াও এর আগে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমপক্ষে ১১ লাখ। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশের সহায়তায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ক্যাম্প নির্মাণ করে তাদের আশ্রয় দিলেও তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি বরাবরই দাবি জানিয়ে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর