Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

শীঘ্রই ঘোষনা আসছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ / ৬৮ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০

সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র মতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। কয়েকদফা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের অসহযোগিতার কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। আর দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। সাংগঠনিক এ অচলাবস্থা দুর করতে কক্সবাজারে নতুন কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি গঠন নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথেও কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সভায়ও আলোচনা হয়েছে। অতিসম্প্রতি নতুন কমিটি ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে নতুন কমিটি গঠনের খবরে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের উজ্জীবিত হতে দেখা গেছে। তারা তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন।

তবে, অনেকে আবার কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নতুন কমিটি আসার খবরটি নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

তাদের মতে, অনেকবার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা প্রচার হয়েছিল। কিন্তু তা প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও বর্তমান কমিটি বহাল রাখতে কেন্দ্রে তদবির শুরু করেছেন।

জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়াদ উত্তির্ণ হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করা হয়। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের অসহযোগিতা আর অনিচ্ছায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের বছরের ২০ সেপ্টম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজুয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ নির্দ্দিষ্ট তারিখে সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলে কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। কিন্তু হঠাৎ কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব থেকে শোভন-রাব্বানী অব্যাহতি নেয়ার কারণে সেবারও সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের তরুন নেতৃত্ব একদিকে যেমন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, তেমনি অন্যদিকে সাংগঠনিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। মাঠে কার্যক্রম না থাকায় জেলা ছাত্রলীগের তার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক নির্ভর হয়ে পড়েছে।

ছাত্রলীগের অনেকের দাবি গেল ৫টি বছর জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারিতা আর অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। নিজেদের ইচ্ছে মতো প্রেস বিজ্ঞপ্তি নির্ভর কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অনেক উপজেলায় কমিটি গঠনে দেয়া হয়েছে ব্যর্থতার পরিচয়। অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়টিও প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ঝিমিয়ে পড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং গঠনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ১০ ধারার (খ) উপ-ধারা মতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, নেতৃত্ব সংকটের কারণে জেলা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। দীর্ঘদিন পর হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে নতুন কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দেয়া তথ্য মতে, জেলা ছাত্রলীগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক মারুফ আদনান, আপ্যায়ন সম্পাদক কায়সার চৌধুরী রুবেল এবং ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ার হোসেনের নাম প্রচার পাচ্ছে।

নাম আসাদের মাঝে কারণে-অকারণে মাঠে সরব ছিলেন সাদ্দাম ও মারুফ আদনান। স্বাভাবিক সময়ে সরকার ঘোষিত নানা কার্যক্রম তারা স্ব স্ব ভাবে পালন করেছেন। এসের মাঝে করোনাকালে তাদের কর্মকান্ড সবসময় প্রসংশিত হয়েছে। সাদ্দাম কোরোনাকালীন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী তৈরি করে স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতার পাশাপাশি মানবিক ও দাফনটীম করে শহর-গ্রাম তথা প্রত্যন্তাঞ্চল চষে বেড়িয়েছেন। যা গণমাধ্যমে বার বার উঠে এসেছে। একইভাবে অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের দারে দারে নিরবে খাবার পৌঁছে দিয়ে সরকারের কার্যক্রমের সাথে সক্রিয় ছিলেন মারুফ আদনান। গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগ কর্মী হয়ে তারা মাঠে ছিল এবং এখনো রয়েছেন। যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববৃন্দও অবগত রয়েছেন বলে প্রকাশ পায়।

আবার, নাম আসাদের মাঝে জেলা ছাত্রলীগের কোন পদে না থাকলেও বড়ভাই বিতর্কিত সাবেক জেলা সভাপতি আলী আহমেদের তদবিরে আনোয়ার হোসেন সভাপতির পদ ভাগিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আনোয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির উপর হামলা মামলার আসামী। জেলায় রাজনীতি না করলেও লবিং করে বড়ভাইয়ের মতো পদ ভাগিয়ে নিতে কোটি টাকার মিশনে নেমেছে বলে অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। বিতর্ক রয়েছে কায়সার চৌধুরী রুবেলকে নিয়েও।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান কমিটির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মঈন উদ্দিন এবং ওয়াসিফ কবির।

এদের মাঝে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে সরব ছিলেন উপ-দপ্তর সম্পাদক মঈন উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।

এর বাইরেও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন যারা স্ব স্ব ভাবে লবিং করছেন বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বলেন, কক্সবাজার ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। তাই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিতর্কিত কাউকে কমিটির দায়িত্ব দেয়া হবে না। জেলা আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে কথা বলে দ্রুত কমিটি গঠন করার আশা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর