Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

মাস্ক পরায় কড়াকড়ি, মান নিয়ে কেউ ভাবে না

উখিয়া কন্ঠ  ডেস্ক / ৪৪ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
Health officials wear face masks at an inspection site at the Kuala Lumpur International Airport in Sepang, Malaysia, Tuesday, Jan. 21, 2020. Countries both in the Asia-Pacific and elsewhere have initiated body temperature checks at airports, railway stations and along highways in hopes of catching those at risk of carrying a new coronavirus that has sickened more than 200 people in China. (AP Photo/Vincent Thian)

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সরকার জনসমক্ষে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। তবে বেশিরভাগ লোকই মাস্ক পরে না। বাজারে মাস্কের মান নিয়ে কেউ ভাবে না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় এখন থেকে মাস্ক ছাড়া কাউকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে ঢুকতে দেয়া হবে না। সেই সঙ্গে দেয়া হবে না কোনো সেবাও। অফিসগুলোতে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারের এমন বাধ্যবাধকতার ও নির্দেশনা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা কমেছে। একই সঙ্গে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বাজারে যেসব মাস্ক পাওয়া যায়, সেগুলো ভাইরাস মোকাবিলায় আসলেই কার্যকর কি না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা থেকে সুরক্ষায় সবচেয়ে ভালো কাপড়ের তৈরি মাস্ক। দেশে প্রত্যেকেরই উচিত মাস্ক ব্যবহার করা। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের অজান্তেও ভাইরাসটি ছড়িতে দিতে পারেন।’
প্রতিবার কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের পর সেগুলো সাবান দিয়ে গরম পানিতে অন্তত এক মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। রোদে শুকানোর পর তা আবার ব্যবহার করা যাবে।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারে যে দুই টাকার মাস্ক পাওয়া যায়, তা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম নয়। এই মাস্ক এড়িয়ে চলা ভালো। ফার্মেসির দোকান থেকে সার্জিক্যাল মাস্ক কিনে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেটাও ২ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ফেলে দিতে হবে। আবার নতুন মাস্ক নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

ফুটপাতে বা বাজারে যেসব মাস্ক পাওয়া যায়, তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এসব মাস্ক করোনা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলেও বায়ুবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, মাস্ক ব্যবহার কখনোই হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নয়। খুব জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হলে মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, মাস্ক ব্যবহার করলেই সুরক্ষিত থাকা যাবে।

কীভাবে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইনার যারা আছেন, সবাইকে মাঠে নামতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ভূমিকা রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের নামতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তার এলাকায় মাস্ক ব্যবহারের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে মাস্ক পরতে।’

মাস্ক কেন দরকার জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘মাস্ক করোনা সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধ করে। অর্থাৎ মাস্ক পরলে রোগটা তার থেকে অন্যের মধ্যে যাচ্ছে না, আবার অন্যের থেকেও তার মধ্যে আসছে না।’

রাজধানীর একটি স্কুলের দ্শম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ওষুধের দোকান থেকে মাস্ক কিনতে গিয়ে দাম বেশি দেখে ফুটপাত থেকে ২০ টাকায় ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনে সে। প্রায় সাত মাস ধরে সে এ ধরনের মাস্ক ব্যবহার করছে।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার নিউজবাংলাক বলেন, ‘সার্জিক্যাল মাস্ক করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে এটা পরীক্ষিত নয়। এ ছাড়া আমাদের দেশে যে হারে নকল মাস্ক তৈরি হয় হচ্ছে, তা দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাজারে পাওয়া এসব মাস্ক পরে বায়ুবাহিত রোগগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, বাজারে যেসব মাস্ক পাওয়া যায়, তার অধিকাংশ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। তবে বায়ু দূষণে নানারকম অসুখ হয়। সেগুলো প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারে ভালো ফল দেয়।

তিনি বলেন, মাস্ক ব্যবহারের কারণে এবার কিছুটা হলেও বায়ুবাহিত রোগের সংখ্যা কমে আসছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার মাস্ক পরায় কড়াকড়ি আরোপ করলেও দিনে দিনে মাস্ক পরার প্রবণতা কমে আসছে। এমন প্রমাণ মিলেছে সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার একটি জরিপে।

গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এই জরিপ করা হয়। ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এই জরিপে দেখা যায়, দেশের ৪৮ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরেন না। অথচ মাস্ক ব্যবহার করলে করোনার ঝুঁকি কমে, এমন মত এসেছে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ।

সুত্র :নিউজ বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর