দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে মাথায় অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে।

মাথার বা পাশে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচারের কথা জানান রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসকরা। তবে তার সেন্স আগের তুলনায় কিছুটা ভালো।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াহিদা খানমকে দেখতে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে যান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার (ওয়াহিদা খানম) কথা এখন অনেক স্পষ্ট। তবে মাথার বা পাশটা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেন্স আগের তুলনায় ভালো।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অবস্থার আরেকটু উন্নতি হলে তাকে অস্ত্রোপচারে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার জন্য বেস্ট ট্রিটমেন্ট নিশ্চিত করা হয়েছে। সে হিসেবেই তাকে (ওয়াহিদা খানম) ট্রিটমেন্ট দেয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। কারণ এখনও জানা যাচ্ছে না। কারা জড়িত সে বিষয়ে ইউএনও কিছু বলতে পারছেন না। এমন শত্রু সম্পর্কে তার কোন কোন ধারণা নেই।

ফরহাদ হোসেন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দু’জন শীর্ণকায় তরুণ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তবে তাদের মুখাবয়ব এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে জোর দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশের সকল ইউএনও’দের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. দীন মোহাম্মদ জানান, ইউএনও ওয়াহিদার ব্লাড প্রেসার বেড়েছে। দেশসেরা নিউরোসার্জনদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রাত নয়টায় একটা অপারেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনের দোতালায় বাথরুম ভেঙ্গে দুই জন দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। এসময় ওয়াহিদার সন্তান ও পিতাও আহত হন। ওয়াহিদা খানমের স্বামীও রংপুর পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপরই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউএনওকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।