Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

স্বেচ্ছায় ঘরে থাকবেন রোহিঙ্গারা

ডেস্ক রিপোট / ৮৫ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

২৫ আগস্ট ৩য় ‘রোহিঙ্গা জেনোসাইড রিমেম্বার ডে’ পালন করবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। তবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বড় আকারে সমাবেশ আয়োজন, মসজিদে মসজিদে দোয়া, ব্যানার ফেস্টুন, টি শার্ট ইত্যাদি নিয়ে ব্যাপক আকারে দিনটিকে স্মরণ করলেও এ বছর কোনও কর্মসূচি দেয়নি রোহিঙ্গারা। এ বছর সকাল-সন্ধ্যা ঘরে থেকে দিনটি স্মরণ করবেন তারা। করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি না পাওয়া এমন কর্মসূচির প্রধান কারণ। তবে রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা সোসাইট ফর পিস অ্যান্ড হিউমিনিটি (এআরএসপিএস) এর ভাষ্য হচ্ছে, অনুমতি না পাওয়ার চেয়েও এমন মৌনতার মাধ্যমেই তারা বোঝাতে চান ‘ঘরে ফিরে যাওয়াই প্রধান রক্ষা’।

তিনি জানান, টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা সংগঠন ভয়েস অব রোহিঙ্গা, স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, রোহিঙ্গা স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক, রোহিঙ্গা ইয়ুথ ফর লিগ্যাল অ্যাকশন, রোহিঙ্গা ইয়ুথ ফেডারেশন, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম, এডুকেশন ফর রোহিঙ্গা জেনারেশন, রোহিঙ্গা ওমেন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস নামের সংগঠন এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মোস্তফা কামাল বলেছেন, ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তিন বছর পূর্ণ হবে। এই উপলক্ষে যাতে ক্যাম্পে কোনও লোকজন জড়ো হয়ে মিছিল, মিটিংয়ে অংশ না নেয় সেজন্য আগে থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে দিবসটি ঘিরে কোনও ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা কক্সবাজারের ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাকাল হওয়ায় ক্যাম্পে ২৫ আগস্ট উপলক্ষে মিটিং, মিছিলসহ সব ধরনের সভা না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) অঞ্চলের মংডু, বুচিথং ও রাসেথং জেলার রোহিঙ্গাদর ওপর গণহারে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সেনা সমর্থিত নাটালা বাহিনীর লোকজন। এর ফলে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নিজেদের দেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আর আগেই দেশটি থেকে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। এসব রোহিঙ্গাকে এক ক্যাম্পের আওতায় আনায় তারা বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এছাড়াও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড বা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন দশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছে, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, শিশু হত্যা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়াসহ সব ধরনের অপরাধ সংঘঠিত করেছে মিয়ানমার সরকার বাহিনী। তাই গত দু’বছর ধরে রোহিঙ্গারা ২৫ আগস্টকে ‘রোহিঙ্গা জেনোসাইড রিমেম্বার ডে’ বা ‘গণহত্যা স্মরণ দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আইসিজে ও আইসিসিসহ আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এদিকে, ২০১৮ সালে এ দিবসটি স্মরণে রোহিঙ্গারা শুধু দোয়া প্রার্থনা করলেও ২০১৯ সালে মসজিদে মসজিদে দোয়ার পাশাপাশি বিনা অনুমতিতে ব্যানার ফেস্টুন, টি শার্ট ইত্যাদি পড়ে বড় আকারে সমাবেশ আয়োজন করে এআরএসপিএসসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা সংগঠন। এ ঘটনাটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজে বিঘ্ন ঘটায় এবং লাখ লাখ রোহিঙ্গার সমাবেশকে দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে দেখে সরকার। এ কারণে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি)সহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেয়।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর