Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

পেকুয়ায় নামের সাথে নাম মিল থাকায় বিনা অপরাধে ২৭ দিন জেল খেটেছে জয়নাল!

পেকুয়া প্রতিনিধি / ১৫২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পিতার নাম ও নিজের নাম অন্য জনের নামের সাথে হুবুহু মিল থাকায় বিনা অপরাধে ২৭ দিন জেল খেটেছে অসহায় দিন মজুর জয়নাল আবেদীন (৩৪)। তিনি পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়েন ১ নং ওয়ার্ডর ভারুয়াখালী গ্রামের শব্বির আহমদের পুত্র।

জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী শাহানা আক্তার বাদী হয়ে বিগত ২০১২ ইংরেজীতে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৯/২০১২ ইং। শাহানা আক্তার তার স্বামীর সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তার মোহরানার দাবিতে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে দীর্ঘদিন এ মামলার চলার আদালত শাহানার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা হারী করে সেটি পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।

মামলার আর্জিতে শাহানা তার স্বামীর নাম জয়নাল আবেদীন পিতাঃ শবির আহমদ, বারবাকিয়া ইউনিয়ন উল্লেখ করেন।
কিন্তু কোন ওয়ার্ড ও কোন গ্রাম উল্লেখ না থাকায় পেকুয়া থানা পুলিশ গত ১২/০২/২০২০ ইং তারিখে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানার আলোকে শাহানার প্রকৃত স্বামী জয়নাল আবেদীন পিতা: শবির আহমদ, গ্রাম: বারাইয়াকাটাকে গ্রেপ্তার না করে জয়নাল আবেদীন পিতা: শব্বির আহমদ, গ্রাম ভারুয়াখালীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতার হয়ে জেল যাওয়া জয়নাল আবেদীন নিরপরাধ তার স্ত্রীর নাম মরিয়াম বেগম। শাশুর বাড়ি চকরিয়া। তার স্ত্রী চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়েন বাংলা পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ হোসাইনের মেয়ে। মামলার বাদী শাহানা আক্তারের সাথে জয়নালের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। গ্রেফতারের আগে তাদের সাথে জীবনে কখনো দেখাও হয়নি। বারবাকিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলামের ভুল তথ্যতে পেকুয়া থানা পুলিশ জয়নালকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করেছিল।

জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী মরিয়াম বেগম বলেন, আমার স্বামীকে চৌকিদার নুরুল ইসলাম ডেকে নিয়ে পুলিশকে তুলে দেন। আমরা যখন চৌকিদারকে জিজ্ঞেস করি তখন বলেন, বন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আমাকে ২০ হাজার টাকা দাও আমি তোমার স্বামীকে মুক্ত করে আনব। তাৎক্ষণিক আমার হাতে টাকা না থাকায়, আমি আমার অলংকার স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে ২০ হাজার টাকা চৌকিদারের হাতে তুলে দিই। আরো বলে তোমাদের কাউকে থানায় যেতে হবে না, আমি তোমার স্বামীকে নিয়ে আসব। পরে দেখি আমার স্বামীকে বারাইয়াকাটার নারী সংক্রান্ত একটি মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে।

ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন, মামলা বাদী শাহানাকে আমি চিনিনা। তার সাথে আমার কোনদিন দেখা হয়নি। চৌকিদার ও পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করে জেলে প্রেরণ করে। ২৭ দিন কারাভোগ করার পর মুক্তি পেয়েছি। আমি এখনো প্রাণের ভয়ে আছি, আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জয়নাল আরো বলেন পেকুয়া থানার এস আই সুমন সরকার তাকে মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছে।

এই বিষয়ে গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ.এম বদিউল আলম জানান, দুই জয়নালের মাঝে কোন সম্পর্ক নাই। যে জয়নাল জেল খেটেছে তিনি নিরপরাধ। হয়রানির শিকার হয়েছে।

পেকুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুল আজমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জয়নাল যদি নিরপরাধ হয়ে জেল খেটে থাকে তাহলে বিষয়টি মর্মান্তিক। আমার কাছে আসলে আমি তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর