Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

ওসি প্রদীপের সোর্স দফাদার আমিনও কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ২৬৩৪ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে ৩১ জুলাই নিহত হন (অব:) মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদি হয়ে গত ৫ আগস্ট ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরের দিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম থেকে আটক হন ওসি প্রদীপ। এর আগে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন আরো ৬ জন।

এদিকে ওসি প্রদীপের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোক্তভোগীরা কথা বলতে শুরু করেন। যারা ওসি প্রদীপের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারাই এখন গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে ওসি প্রদীপ যাদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুবিধা নিতো তাদের মুখোশ উন্মোচিত করছেন অসহায় মানুষগুলো। সাবেক ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী, চকিদার এবং দফাদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলছেন তারা।

এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দফাদার নুরুল আমিন। এলাকায় তাকে নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। এতদিন ইয়াবা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ লোকজনকে মামলার জড়ানো, বন্দুকযুদ্ধ এবং অপহরণের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন দফাদার আমিন। আর এসব টাকা অর্ধেক নিজের কাছে রেখে বাকি অর্ধেক ওসি প্রদীপের কাছে দিতেন। যারা তার কথা এড়িয়ে চলতেন তাদের ভাগ্যাকাশে নেমে আসতো বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ইয়াবা নিয়ে আটকের ঘটনা। আবার অনেকে অপহরণ হয়ে যেতেন।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সোর্স হিসেবে পরিচিত নুরুল আমিন ৭ হাজার টাকার বেতন ভ‚ক্ত দফাদার হলেও বর্তমানে তিনি কোটি টাকার মালিক।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, নুরুল আমিন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজর পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৌলভী সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বাবা পেশায় কানজর পাড়া বাজারে অবস্থিত জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম।

দফাদার হলেও নিজ এলাকা কানজর পাড়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে করে ৫ তলা ফাউন্ডেশনের নির্মাণধীন একটি মার্কেট রয়েছে। নিজের ব্যবহারের জন্য রয়েছে দুইটি মোটর সাইকেল। করেছেন চোখ ধাঁধানো ডুপ্লেক্স বাড়িও। একজন দফাদারের এত টাকা উৎস কি এ প্রশ্নের সহজ উত্তর এলাকার শিশুরাও দিতে পারে এখন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহম্মদ আনোয়ারী বলেন, গত দুই কি তিন বছর আগে তিনি দফাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তার বেতন উপজেলা প্রশাসন দিয়ে থাকে। তার মাসিক বেতন ৭ হাজার টাকা মতো। তবে আমার সঠিক মনে নেই। দেখে বলতে হবে বলে ফোন কেটে দেন। এরপরে আর ফোন ধরেন নি চেয়ারম্যান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব থেকে তাদের বেতন প্রদান করা হয়। তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১৫ হাজারের মতো। যদি কেউ অনৈতিকভাবে ধন সম্পদের মালিক হয় তবে তা ব্যবস্থা নিবেন দুদক। আর যদি ক্রিমিনাল অপরাধ করে থাকে তবে ব্যবস্থা নিবেন আদালত।

অপরদিকে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনার পর ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটতে থাকে। এসব ঘটনায় আসামী করা হয় ইচ্ছে মতো। বিশেষ করে ওসি প্রদীপের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যারা গেছেন সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমন কি কারাগারে থাকার পরও বন্দুকযুদ্ধে ঘটনায় আসামী হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় পুরো টেকনাফে আতংক দেখা দেয়। প্রদীপ যেন উক্ত এলাকার মানুষের মাঝে অন্ধকার এনে দিয়েছে। আর মানুষের মানের ভয়কে কাজে লাগিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে, বন্দুকযুদ্ধের হুমকি দিয়ে সব শ্রেণীর পেশার মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে থাকে ওসি প্রদীপের নিজস্ব সোর্স। আর এসব সোর্সের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন মাদক ব্যবসায়ী চক্রও। হোয়াক্যংএ নুরুল আমিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠা চক্রের মধ্যে অন্যতম মামুন, শাহ আজিজুর রহমান, জালালসহ আরো কয়েকজন। যার ফলে শীর্ষ এসব ইয়াবা ব্যবসায়ী এখনো অধরা রয়ে গেছেন। টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপের নামে একদিকে মাদক ব্যবসা অন্যদিকে চাঁদাবাজি হয়েছে সমানে সমান। ফলে ওসি প্রদীপের মতো ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন দফাদার নুরুল আমিনও। ৭ হাজার টাকার বেতনভূক্ত দফাদার কয়েক বছরে জীবনের গল্পটাও বদলে নেন।

এলাকাবাসির অভিযোগ, এলাকায় তো আর সবাই ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিল না। যারা প্রবাসে কিংবা লবন, চিংড়ি ব্যবসা করে কিছু টাকা আয় করেছে তাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করেছে দফাদার নুরুল আমিন। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করেছেন তাদেরকে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আসামী করেছেন আবার কাউকে আটকের পর নির্যাতন চালিয়ে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়ার কথা বলেও হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। দাদের আর্শিবাদপুষ্ট ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দফাদার নুরুল আমিন এবং ওসি প্রদীপের জন্য নির্দ্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্ধ রাখতেন। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলার সাহ পেতনা।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে দফাদার নুরুল আমিনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে শুরুতে সৌজন্যতামূলক কথা বললেও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন। এর পরে আর ফোন রিসিভ করেন নি।

সুত্র :আলোকিত কক্সবাজার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর