Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

পেকুয়ায় দা-বাহিনীর কমান্ডার নাছির ও বনের রাজাখ্যাত জাহাঙ্গীর বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ১০১ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

 

কক্সাবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে এখন মহা-মুর্তিমান আতংক দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চুরি-ডাকাতি, বন নিধনসহ প্রায় ডজনখানেক মামলার আসামী বনের রাজাখ্যাত জাহাঙ্গীর আলম ও দা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার বহু মামলার আসামী নাছির উদ্দিন ওরফে দা নাছির। গত কয়েক বছর ধরে পেকুয়া উপজেলার টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই সন্ত্রাসী বাহিনীর সীমাহীন অত্যাচার জোর-জুলুমে চরমভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। ইতিপূর্বেও এই দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন নিয়ে জাতীয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় একাধিক তথ্যনির্ভর ও বস্তনিষ্ট সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। উল্টো স্থানীয় প্রশাসনের কিছু লোভী কর্মকর্তা ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছ থেকে মাসোয়ারা নিয়ে বরাবরই নিশ্চুপ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ী দুই ইউনিয়ন টইটং ও বারবাকিয়ার বাসিন্দারা এখন দা বাহিনীর নাছির ও বনের রাজা খ্যাত জাহাঙ্গীরের কীর্তিকলাপের কাহিনী বলতেই ঢুকরে কেঁেদ উঠেন।

স্থানীয়দের বর্ণনা দেওয়া ভয়ংকর কাহিনী শুনলে যে কারো গা শিউরে উঠবে। দীর্ঘদিন ধরে বছর ধরে পেকুয়া উপজেলার দুই পাহাড়ী ইউনিয়ন বারবাকিয়া ও টইটংয়ে ডাকাতদের আস্তানা গড়ে তোলে পাহাড়ের বাসিন্দাদের জিম্মি করে নানান ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠিত করে আসলেও বরাবরই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারীর বাইরে রয়েছে।

সম্প্রতি এ প্রতিবেদক পেকুয়া উপজেলার ওই দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে দা বাহিনীর নাছির ও বনের রাজাখ্যাত দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলমের অপরাধ নামার বহু ফিরিস্তি উঠে আসে। জাহাঙ্গীর পেকুয়ার পাহাড়ের যেন অঘোষিত বন রাজা। আর সেখানে যারা বসবাস করেন তারা যেন তার প্রজা। বারবাকিয়ার পাহাড়ে জাহাঙ্গীরের ভাই ডাকাত আলমগীর ও তার পিতা ডাকাত জাফর আলমের অত্যাচারেও মানুষ অতিষ্ট। পেকুয়ার বারবাকিয়ার পাহাড়ে জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আলমগীরের নির্দেশমতে সব কিছু চলে। পাহাড় যেন তাদের অঘোষিত সা¤্রজ্যে। বন বিভাগের পাহাড়ী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বন বিভাগের সৃজিত সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি, পাহাড়ি এলাকায় চুরি-ডাকাতি, পাহাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের জায়গা জমি জোর পূর্বক দখল করে অন্যজনকে চড়াদামে বিক্রি, নারীদের অত্যাচারসহ আরো নানা ধরনের অপরাধই নিত্যসঙ্গী জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই আলমগীর ও তার বাহিনীর।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পেকুয়া উপজেলার মধ্যে বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে গহীন বনে জাহাঙ্গীর ও তার ভাই আলমগীর বাহিনীর অস্ত্রধারী লোকজন অবস্থান করলেও তাদের অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে মুখ খোলতে সাহস পায়না স্থানীয়রা। কেউ প্রতিবাদ করলে গভীর রাতে বা দিনদুপুরে আলমগীরের অস্ত্রধারী বাহিনী গিয়ে ওই প্রতিবাদী ব্যক্তির বসতঘরে হামলাসহ ওই বাড়ীর যুব নারীদের ধর্ষনের মতো হুমকি দেওয়া হয়। গত ৫ বছরে ওই পাহাড়ী এলাকার ১০টি গ্রামের অন্তত: অর্ধশতাধিক নারী ডাকাত আলমগীর ও তার বাহনীর সদস্যদের দ্বারা পাশবিক অত্যচারের শিকার হয়েছেন। যা সামাজিক মান সম্মানের ভয়ে প্রকাশ করতে পারছেন না ওই গ্রামের নির্যাতিত নারীদের পরিবার।

জানা গেছে, প্রতি রাতেই বন বিভাগের সংরক্ষিত বন ও সামাজিক বনায়নের এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ সন্ত্রাসী বাহিনী। এসব বনভূমিতে আস্তানা স্থাপন করে এই দুই বাহিনীর অস্ত্রধারী ক্যাডাররা পাহাড়ের কোন না কোন অসহায় পরিবারে হানা দেয়। এখানে তাদের থাবায় প্রথম শিকার হন নারী বা কিশোরীরা। এমনকি পিতা-মাতার সামনেই কিশোরীর ইজ্জত কেড়ে নেন ওই দূর্ধর্ষ বাহিনী।

বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামের জাফর আলমের দুই পুত্র পুত্র দূর্ধর্ষ জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের নেতৃতে অস্ত্রধারী অপরাধীরা সক্রিয় থাকলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নাগাল পাচ্ছেনা।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে বারবাকিয়া বাজারে প্রকাশ্যে বনের রাজাখ্যাত সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার বাহিনীর লোকজন বারবাকিয়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু জাফরের পরিবারের অন্তত ৭/৮ জন সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়াও জাহাঙ্গীর আলমের নৃশংসতা থেকে রক্ষা পায়নি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও পাহাড়িয়াখালীর আনসার। তাকেও কুপিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই আলমগীল ও তাদের পিতা জাফর আলমের বিরুদ্ধে রয়েছে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক মামলা। এসব মামলায় কয়েকটিতে গ্রেফতারী পরোয়ানাও থাকতে পারে।

অপরদিকে টইটং ইউনিয়নে বটতলী এলাকায় এক বিধবা নারীকে রাতের ধর্ষণ চেষ্টা চালিয়েছে দা বাহিনীর প্রধান নাছির উদ্দিন। এ নিয়ে ওই বিধাবা নারীর পরিবার পেকুয়া থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলাও করেছে। সদ্য জেল ফেরৎ নাছির উদ্দিন প্রকাশ দা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার নাছিরের অপকর্মের ফিরিস্থি লিখে শেষ করা যাবেনা। ১০/২০টি মামলার আসামী এই দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে বিগত ১০ বছর পূর্বে দা বাহিনী গঠন করে। মাঝখানে কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্ট হলে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান দা বাহিনীর নাছির উদ্দিন। সম্প্রতি সময়ে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলে যান। জেল থেকে বের হয়েও পুরানো অভ্যাস ছাড়তে পারেনি দা বাহিনীর কমান্ডার ডাকাত নাছির উদ্দিন। ফের শুরু করেন পাহাড়ের জমি দখল, চুরি-ডাকাতি, ইয়াবা ব্যবসাসহ নানান ধরনের অপরাধ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর