Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

নাইক্ষ্যংছড়ি খালের ড্রেসিংয়ের অভাবে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন কুলবাসী

মোহাম্মদ ইউনুছ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি / ১৫৫ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একমাত্র খালটি দীর্ঘদিন ধরে ড্রেসিংয়ের অভাবে অধিকাংশই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে খালের দুইপারে বসবাসরত বাড়িঘরে পানি ঢুকে তলিয়ে গিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে কুলবাসী। অপরদিকে খালের দু’পাশে বসবাসরত অনেকের বাড়িঘরের সীমানা খালে চলে আসায় বাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে বাড়ি রক্ষার মাটিতে ভরাট হচ্ছে খাল। অনেক জায়গায় জেলা পরিষদ বা উন্নয়ন বোর্ডের গাইডওয়ালে এক পাশ রক্ষা করলেও খালের আয়তন ছোট হয়ে অপর পাশ ভাংছে। তাতে অনেকের ফসলী জমি সহ বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিচের পাড়ার বিরেন্দ্র বড়–য়া (লেড়–) জানান, আমি ১০ বছর ধরে এই খালটির পাশের্^ বসবাস করে আসছি। কিন্তু তার অপর পাশে বাঁধ দেওয়ায় পানির ¯্রােত আমদের দিকে। যার কারণে দু’চার বছর ধরে একটু একটু ভাংতেই বর্তমানে আমি সহ অনেকের ঘর খালে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে । বিশেষ করে ভারী বর্ষনে আমাদের বড়–য়া পাড়ায় ৩-৪ ফুট পানি উঠে প্রতিটি ঘরে। একই পাড়ার বৃদ্ধ পুলিন বড়–য়া জানান, ৭০ বছর ধরে আমি এই পাড়াতে বসবাস করছি । এমন কোন বর্ষা নাই ঘরবাড়ি ছেড়ে পাহাড়ে যেতে হয়নাই। সেই সাথে ধীরে ধীরে আমাদের বড়–য়া পাড়াটি ভেঙ্গে আয়তন অনেক ছোট হয়েছে। ভরাট হচ্ছে অপরদিকে। তাই পাড়াটি রক্ষার্থে একটি সাইডওয়াল দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হক, সোলাইমান সওদাগর, আবুু বক্কর (পেঠান) সওদাগর সহ অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান, এক সময় আমরা রামু থেকে নৌকা করে এই বাজারে মালামাল আনতাম। সেই খালটি বর্তমানে আয়তন ছোট ও ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে আমাদের বাজারে কোমর পরিমাণ পানিতে পরিণত হয়। তারা আরো জানান, চলতি বছরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রষ্ঠোয় নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার থেকে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত খালটি ড্রেসিং করায় কিছুটা স্বস্থি পাচ্ছি। তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই খালটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা থেকে শুরু হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির গন্ডি পেরিয়ে আঁকাবাঁকা সীমানায় বাকখালী নদীতে মিশেছে। এলাকার প্রবীন ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর আহমদ সওদাগর জানান, যে খাল দিয়ে ৯০ দশকের আগে উপজেলার চাকঢালা,আশারতলী, কম্বনিয়া, ছালামী পাড়া, ফুট্টাঝিরি, বিছামারা ও মন্ডলিয়াঘোনা সহ এলাকায় উৎপাদিত ফসলাদি বহনের জন্য এই খালে একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। বর্তমানে নৌকাত দুরের কথা সামান্য একটি বাঁশের চালিও নেওয়া মুশকিল। যার কারণে নদীর দু’পাশে উৎপাদিত মুলি বাশগুলো পরিবহন করতে গিয়ে তিনগুন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সে কারণে এ বাঁশের শত চাহিদা থাকা সত্তেও ব্যবসায়ীরা না আসায় বাঁশের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিক্রেতারা। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্যানুঅং চাক জানান, বিছামারা থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পিছন পর্যন্ত পার্বত্য জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দুই পাশের বাড়িঘর রক্ষার্থে অনেকগুলো সাইডওয়াল দেওয়া হয়েছে। তাতে সুফলও পাচ্ছে এলাকাবাসী। বড়–য়া পাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই পাড়াটি প্রতি বর্ষায় পানিবন্দির ঘটনাটি সত্য। এখানে একটি বড় গাইডওয়ালের পরিকল্পনা রয়েছে। যা পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিদর্শন করেছে। অচিরেই তা বাস্তাবায়ন হবে। খালটি ভরাটের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি জানান, খাল ভরাটের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। এই বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করবেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর