Logo
শিরোনাম :
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

জেল থেকে বের হয়ে বেপরোয়া পেকুয়ার দা_বাহিনীর কমান্ডার নাসির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি: / ১৭০ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

পেকুয়ায় দা বাহিনীর প্রধান নাসির উদ্দিনের অত্যাচারে আবারো অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকার নিরীহ মানুষ।
দীর্ঘ ১৮ মাস জেলে কেটে বের হয়ে জমি জবর দখল, পাহাড় কেটে নিধন আর প্রতিপক্ষ ও প্রতিবাদকারীদের উপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রাখায় পুরো টইটং ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম আতংকে দিনাপাত করছে। বিগত ৪/৫ বছর আগের দা-বাহিনীর নৈরাজ্য আবারো ফিরে আসায় সেই নৈরাজ্য বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বাহিনীর বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও বন আইনে পেকুয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় কয়েক ডজন মামলা রয়েছে। ২০ জন ভয়ংকর ও দাগী অপরাধী নিয়ে গঠিত এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন টইটং পন্ডিত পাড়ার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে নাসির। বিগত ৪/৫ বছর আগে সরকারের অব্যাহত অভিযানে দেশ ছেড়ে মালেশিয়ায় পালিয়ে যায়। ওই সময় তার অনুসারীর মধ্যে বেশ কয়েকজনের জেল আবারো কিছু অপকর্মে ছেড়ে ভাল হয়ে যায় আবার কিছু পাহাড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। শান্তি চলে আসে এলাকায়।
২০১৭সালে আবারো দেশে চলে আসেন দা-বাহিনীর প্রধান নাসির উদ্দিন। এসেই মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা নিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জেলে চলে যান। ১৮মাস কারাভোগ করার পর বের হয়। বের হয়ে কিছুদিন ভালভাবে চললেও গত ৬মাস ধরে দা-বাহিনীর সদস্যদের এক কাতারে নিয়ে আসার মিশনে নামেন। এক্ষেত্রে নাসির উদ্দিন ২৫/৩০জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গঠন করতে সক্ষম হন। তাদের নিয়েও শুরু করেন জমি জবর দখল, পাহাড় কাটা আর নিরহ লোকদের উপর হামলা আর অপহরণের ঘটনা। তার সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দলে বাঁশখালীর বেশ কয়েকজন ডাকাত যোগ দেন।
জানা গেছে, বেশ কয়েকজন নিরহ লোকদের উপর হামলার ঘটনার পর যুবলীগ নেতা হেলালকে অপহরণ করার পর মারধর করে বাঁশখালীর ডাকাত পুইন্যার হাতে তুলে দেয়া, সাবেক ইউপি সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের উপর প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করে। বাঁশখালীর খোকনের জমি জবর দখল করে নেন। স্কেভেটর লাগিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে নিধন করলেও কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার সাহস পায়না বনবিভাগ। ইতোমধ্যে সরকারী বনায়নে অংশগ্রহণকারী উপকারভোগী মৃত উকিল আহমদের স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, বদি আলমের স্ত্রী মাছুদা বেগম, মৃত নজির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হাসান আলী, মৃত আবুল শামার ছেলে হামিদুল হক, হোসেন আলীর ছেলে আবদু ছত্তারসহ প্রায় ২০জনের মত বনায়ন ও বসতবাড়ি দখল করে নেন। কিছু বললে বসতবাড়িতে ডাকাতি ও ছেলে মেয়েদের অপহরণ করবে বলে হুমকি দেন।
স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেন, দা-বাহিনী আবারো অত্যাচার শুরু করেছে। তার পিতাকে হত্যা করার পাশাপাশি জমি ও বসতবাড়ি জবর দখল করে অসহায় ভিটে ছাড়া করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় প্রশাসনেরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
যুবলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, দা-বাহিনীর নাসিন আমাকে অপহরণ করে বাঁশখালীর ডাকাত পুইন্যা ও জসিমের হাতে তুলে দিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহ সহায় ছিল বলে মেরে ফেলতে পারে নাই। সর্বশেষ তার বাহিনীর সদস্য আবদুল হামিদ তাদের নেতা নাসিরের নির্দেশে আমার স্ত্রীকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছিল। দা-বাহিনীর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে না আসলে রড় ধরণের রক্তপাত ঘটাবে তারা।
পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজমকে দা- বাহিনীর প্রধান নাসিরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর