Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

ভয়কে জয় করতে সক্ষম হচ্ছে ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ / ১৭৩ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে দেশী বিদেশী অনেকের প্রচন্ড উদ্বেগ, সংশয় ও আশঙ্কা ছিল। অনেকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করেছিলেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি সামলাতে সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেবাকর্মী হ্রাসকরণ সহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভয় কেটে উঠতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মাঝে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দেশী-বিদেশীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক কাজ করছে শুরু থেকে। দাতব্য সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল, ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে মহামারীর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হবে।কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় ক্যাম্পে গড় ঘনবসতি প্রতি বর্গ কিলোমিটারে অন্তত ৪০ হাজারের বেশী। যা দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি। ক্যাম্পের ঘিঞ্জি ও স্যাঁত সেতে পরিবেশে ১০ বর্গ মিটারের মধ্যে থাকছেন অন্তত ১২ জন।এ অবস্থায় করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শরণার্থী শিবির গুলোতে টেস্টের পরিধি বাড়ানোর সহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা ও দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সেবা সংস্থা গুলো।ইতিমধ্যে উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্মাণ পূর্বক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত হাসপাতাল। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ও স্থানীয় জনগণের চিকিৎসার জন্য নির্মিত সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন (সারি) এন্ড আইসোলেশন ট্রিটমেন্ট সেন্টারে (আইটিসি) অনেকটা আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান।করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষে নির্মিত এসএআরআই এন্ড আইটিসি হাসপাতালের একটি কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা  ক্যাম্পে ও অপরটি উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট এ বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র দুইটিতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত স্থানীয় ও রোহিঙ্গা গুরুতর রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, সব কিছুকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল লোকজনের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের সুফল ইনশাআল্লাহ ভয় কেটে উঠতে শুরু করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা শুরু থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের সচেতন করে তুলতে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে।শরণার্থী কমিশনার বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর লোকজনদের নিয়ে আমাদের ভয় ও উৎকন্ঠা বেশী। কারণ কোন ভাবে যদি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার মাঝে ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে,তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ন।কিন্তু স্থানীয় লোকজন যারা তাদের সর্বস্ব দিয়ে এখনো রোহিঙ্গাদের সহমর্মিতা দেখাচ্ছেন,তাদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার সবধরনের জরুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে তিনি জানান।গত মার্চের শুরুতে বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়। সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কক্সবাজারের যাতে এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে ব্যাপারে বেশ কিছু জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন ও জেলা প্রশাসন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে কঠোরতর নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে।শরণার্থী কমিশনার বলেন, শুরু থেকে ক্যাম্প গুলোতে সকল লার্নিং সেন্টার, শিশু, কিশোর -কিশোরী ও বয়স্ক বান্ধব কেন্দ্র গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য, খাদ্য, চিকিৎসা, সাইট ম্যানেজমেন্টসহ একান্ত প্রয়োজনীয় ও জরুরী সেবা কর্ম ছাড়া অনান্য প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। জাতিসংঘসহ দেশী-বিদেশী শতাধিক এনজিও সংস্থার শত শত কর্মীদের ক্যাম্পে যাতায়াত স্থগিত করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট যানবাহন চলাচল একেবারে সীমিত করে ১০ শতাংশকে যাতায়াতের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সনাক্তের পূর্বে যেখানে প্রায় হাজার খানেক বিদেশী নাগরিক নিয়মিত ক্যাম্পে যাতায়াত করতো সেখানে মাত্র ২০ শতাংশকে চলাচলের অনুমতি প্রদান করা হয়। বর্তমানে ৩৫০-৪ শ’য়ের মত বেশী বিদেশী রোহিঙ্গাদের জরুরী সেবা কর্মে রয়েছে। অধিকাংশ বিদেশী বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে বলে শরণার্থী কমিশনার জানান। অনুমোদিত সেবাকর্মীদের চলাচলের জন্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিস থেকে বিশেষ পরিচয় পত্র দেয়া হয়েছে।একইভাবে অনুমতি প্রাপ্ত যাববাহন গুলোকেও বিশেষ বারকোড এর আওতায় এনে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে চেকিং করা হয়। এসব অনুমোদিত যানবাহন ও দেশী-বিদেশী সেবা সংস্থার কর্মীদের উখিয়া থেকে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর তল্লাশীর পর ক্যাম্পে যাতায়াত করতে হয়, তাও নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে। বর্তমানে কত সংখ্যক বিদেশী নাগরিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ বা আইএসসিজি এর নিকট জানতে চাইলে তা তারা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর