Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

কৃতিত্ব ছিনতাই?

মোহাম্মদ শাহজাহান / ২০৪ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

এক।
সম্প্রতি ‘তুমব্রু-ঘুমধুম বাদ?’ শিরোনামে একটা কলাম লিখেছিলাম। কলামটি পড়ে পুলিশে কর্মকর্তা পদে চাকুরিরত আমার এক বন্ধুর রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য-“কীরে, তুমব্রুকে নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিস দেখছি; তুমব্রু নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করবি নাকি?” বন্ধুকে উত্তরে বলি, ‘ব্যাপারটি আসলে সেরকম না; ঐতিহাসিক তুমব্রু গ্রামটি আমার জন্মস্থান; যেখানেই থাকি না কেনো, বুকের বাম অলিন্দে বয়ে চলি তুমব্রুকে; তুমব্রু নিয়ে অস্বাভাবিকতা সইতে পারি না, তাই লেখা আর কি।‘
দুই।
৩৮ তম বিসিএস-এ নিয়োগের জন্যে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত যাঁরা হয়েছেন, ভক্তকূলের শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন তাঁরা। এতদসঙ্গে আমি অধমও ঐকান্তিক অভিনন্দন জানাচ্ছি তাঁদের। বিশেষ করে অভিনন্দন জানাই নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিঃ মোহাম্মদ সোলাইমান সিকদারকে। এবারে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগের জন্যে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
তিন।
মিঃ সোলাইমানকে নিয়ে ‘সংগ্রামী পিতার অভাবী ছেলেটি নাইক্ষ্যংছড়ির ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার’ শিরোনামে বেশ আবেগপূর্ণ একটি নিউজ-স্টোরি করেছে পার্বত্য নিউজ ডটকম। সাথে আরও বেশ কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যম। আগ্রহী পাঠকরা চাইলে পড়ে নিতে পারেন এই লিঙ্ক থেকে-সংগ্রামী পিতার অভাবী ছেলেটি নাইক্ষ্যংছড়ির ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার। এই স্টোরিটার প্রথম প্যারাটি অর্থাৎ সাংবাদিকতার ভাষায় ইন্ট্রোটি হুবহু এ রকম-‘৮ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। আর্থিক অস্বচ্ছলতা, লজিং থেকে টিউশনি করা অভাবী সেই ছেলেটিই শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন বিসিএস ক্যাডার। যা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রথম।‘
চার।
পাঠক বন্ধুরা, মিঃ সোলাইমানকে নিয়ে করা স্টোরিটার শিরোনামের ‘নাইক্ষ্যংছড়ির ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার’ বাক্যাংশটি খেয়াল করুন। এরপর খেয়াল করুন ইন্ট্রোর ‘যা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রথম।‘ বাক্যটি। কী বুঝলেন? মিঃ সোলাইমান কি নাইক্ষ্যংছড়ির ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার, মানে তাঁর আগে কি নাইক্ষ্যংছড়ির আরও ৩৭ জন বাসিন্দা বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন? উত্তর হলো-না। উত্তরটা হ্যাঁ হলেই বেশি খুশি হতাম যদিও। আরেকটি প্রশ্ন, মিঃ সোলাইমান কি নাইক্ষ্যংছড়ির প্রথম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডার, যেমনটি এই স্টোরিতে প্রতিবেদক বুঝাতে চাইলেন? উত্তর-না। কারণ, এর আগে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু গ্রামের অধিকতর সংগ্রামী এক কামার-পিতা’র অধিকতর অভাবী ও মেধাবী এক সন্তান ৩৬তম বিসিএস (শিক্ষা)-এ উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে বান্দরবান সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। হ্যাঁ, মিঃ জয়দেব কর্মকারের কথা বলছি।
পাঁচ।
তো, পাঠক বন্ধুরা, আমার পুলিশ বন্ধু যা-ই বলুক না কেনো, তুমব্রুকে নিয়ে না লিখে উপায় আছে এই অধমের? এই যে, আবারও লিখতে হলো! লিখতে হলো, সঠিক তথ্য জানানোর দায় থেকে, জন্মস্থানের আর হতদরিদ্র এক পরিবারের সতত সংগ্রামী এক কৃতি সন্তানের স্রেফ মেধার জোরে অর্জিত কৃতিত্ব ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দায় থেকে। এই লেখাটার শিরোনাম ‘কৃতিত্ব ছিনতাই’ কি একটু রুঢ় শুনাচ্ছে? অন্তত আমি তা মনে করি না। যা-ই হোক, মিঃ জয়দেব কর্মকারকে আমরা যথাসময়ে অভিনন্দন জানিয়েছি, সংবর্ধিত করেছি। এবার মিঃ মোহাম্মদ সোলাইমান সিকদারকে জানানোর পালা। মিঃ সোলাইমান, আপনাকে আবারও অভিনন্দন!

মোহাম্মদ শাহজাহানঃ আইনজীবী, সুপ্রীম কোর্ট, বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর