Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

মক্কা-মদিনার মসজিদের নকশা করেছিলেন যে ব্যক্তি

উখিয়া কন্ঠ  ডেস্ক / ২৭২ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

 

ইস’লামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান সৌদি আরবের ম’ক্কা শহরে অবস্থিত কাবা ঘিরে ম’সজিদুল হারাম। ইবরাহিম (আ) ও ইসমাইল (আ) এর দ্বারা প্রথম কাবা নির্মাণ করা মু’সলিম’রা হ’জ্জ ও উম’রার জন্য ম’সজিদুল হারামে যান।
হ’জ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। অ’পরদিকে ম’সজিদে নববী হ’জরত মুহাম্ম’দ (সাঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ম’সজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের ম’দিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে ম’সজিদুল হারামের পর ম’সজিদে নববীর স্থান। হ’জরত মুহাম্ম’দ (সাঃ) হিজরত করে ম’দিনায় আসার পর এই ম’সজিদ নির্মিত হয়।
নির্মাণের পর অনেকবার পুণ-নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হয়েছে মু’সলমানদের এই পবিত্র দুটি ম’সজিদ। আর ম’ক্কার ম’সজিদুল হারাম কিংবা ম’দিনার ম’সজিদে নববীর সংস্কারে একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি অনেক ভূমিকা রেখেছেন যিনি খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেছিলেন। তাই তিনি আজো অনেকেরই অজানা।
সেই মহান ব্যক্তিটির নাম ড. মুহাম্ম’দ কামাল ইসমাঈল। তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্যক্তি। এবং রয়েল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং স্নাতক অর্জন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিও ছিলেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে ইস’লামী আর্কিটেকচারে তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রাপ্তির জন্য ইউরোপে গিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজার কাছ থেকে নীলে স্কার্ফ এবং আয়রন র‌্যাঙ্ক প্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।
এছাড়াও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি ম’ক্কা ও ম’দীনা ম’সজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্যকর্ম তদারকির জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করতে রাজী হননি। তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে বাকের বিন লাদানকে তিনি বলেন, আমি কেন পবিত্র দুটি ম’সজিদে আমা’র কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করব্? তাহলে আমি কী’ভাবে বিচার দিবসে আল্লাহকে মুখ দেখাব?
তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী’ একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে মা’রা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি এবং তার মৃ’ত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিবেদিত করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমের যশ, খ্যাতি এবং অর্থের থেকে দূরে থেকে তিনি দুটি পবিত্র ম’সজিদের সেবায় ব্যয় করেছিলেন।
এই প্রতিভাবান ব্যক্তিটির ম’সজিদুল হারাম এর মা’র্বেলের কাজ স’ম্পর্কিত একটি চ’মকপ্রদ গল্প রয়েছে। তিনি তাওয়াফকারিদের জন্য হারাম ম’সজিদের মেঝেটি ঢাকতে চেয়েছিলেন। আর এই বিশেষ তাপ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন মা’র্বেল কেবল গ্রীসের একটি ছোট পর্বতে পাওয়া যেত। তিনি গ্রীস ভ্রমণ করেন এবং হারামের জন্য প্রায় অর্ধেক পাহাড়ের পরিমাণে মা’র্বেল কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন এবং ম’ক্কার দিকে ফিরে আসতেই সাদা মা’র্বেল চলে এসেছিল। এবং প্রকৃতপক্ষে ম’ক্কার পবিত্র ম’সজিদের মেঝেতে মা’র্বেলের স্থাপন সমাপ্ত হয়েছিল।
এর ১৫ বছর পরে, সৌদি সরকার তাকে ম’দীনার পবিত্র ম’সজিদে অনুরূপ মা’র্বেল স্থাপন করতে বলে। এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্ম’দ কামাল বলেন, যখন বাদশাহ তাকে নবীজির ম’সজিদটিকেও একই মা’র্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন, তখন আমি খুব বি’ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ এই ধরণের মা’র্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে কেবলমাত্র একটি জায়গা ছিল। এটি ছিল গ্রীস এবং আমি এরইমধ্যে তার অর্ধেক কিনে নিয়েছি।
এরপর তিনি গ্রিসের একই সংস্থায় গিয়ে সিইওর সাথে দেখা করেছিলেন এবং তার প্রয়োজনের পরিমাণ স’ম্পর্কে জানিয়েছিলেন। সিইও বলেছিলেন যে, ১৫ বছর আগে তিনি চলে যাবার পরে এটি বিক্রি করা হয়ে গিয়েছিল। এতে কামাল খুব মন খা’রাপ করেন। তিনি সভা ছেড়ে চলে গেলেন এবং অফিস থেকে বেরোনোর সময় তিনি অফিস সেক্রেটারির সাথে দেখা করলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন বাকী’ পরিমাণ মা’র্বেল কিনেছেন তার অবস্থান স’ম্পর্কে জানাতে।
জবাবে ওই ব্যক্তি বলেছিলেন যে এত পুরানো রেকর্ড থেকে জানা কঠিন হবে। তবুও কামালের অনুরোধে তিনি পুরানো রেকর্ড অনুসন্ধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কামাল তাকে হোটেলের ঠিকানা ও নম্বর দিয়েছিলেন এবং পরের দিন তার সাথে আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অফিস ছাড়ার সময় তিনি ভাবছিলেন; আমি কেন জানতে চেয়েছি কে কিনেছে? নিজেকে তিনি নিজেই বলছিলেন, আল্লাহ দারুণ কিছু করবেন।
পরদিন, বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে, কামাল একটি ফোন কল পেয়েছিলেন যাতে বলা হচ্ছিলো যে তিনি ক্রেতার ঠিকানা পেয়েছেন। কামাল বহু বছর পেরিয়ে যাওয়ায় ক্রেতার ঠিকানা নিয়ে কী’ করবেন ভেবে ধীর গতিতে তাদের অফিসে গেলেন।কামাল অফিসে পৌঁছাতেই সেই সেক্রেটারি তাকে সেই সংস্থার ঠিকানা দিলেন যারা বাকি মা’র্বেল কিনেছিলো। মুহুর্তেই তার হৃদয় চঞ্চল হয়ে পড়ল যখন তিনি জানতে পারেন মা’র্বেল কেনা সংস্থাটি সৌদি একটি সংস্থা।কামাল সেইদিনই সৌদি আরব চলে গেলেন। সৌদি পৌঁছে তিনি সরাসরি মা’র্বেল কেনার সংস্থার অফিসে গিয়ে ডিরেক্টর অ্যাডমিনের সাথে দেখা করলেন। তার কাছে বহু বছর আগে গ্রীস থেকে যে মা’র্বেল কিনেছিলেন তা দিয়ে কি করেছিলেন তা জানতে চান। তিনি বললেন, আমা’র মনে নেই। তিনি সংস্থাটির স্ট’ক রুমে গ্রিসের সাদা মা’র্বেল স’ম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তারা তাকে বলেছিলেন যে সমস্ত পরিমাণ রয়ে গেছে, কখনো ব্যবহার হয় নি।
কামাল শি’শুর মতো কাঁদতে শুরু করলেন। এরপর পুরো গল্পটি ওই সংস্থার মালিককে শোনালেন। কামাল ওই সংস্থার মালিককে একটি ফাঁকা চেক দিয়ে তিনি যত দাম চান তা লিখতে বললেন। মালিক যখন জানতে পারলেন যে, মা’র্বেলটি মহানবী (সাঃ) এর ম’সজিদটির জন্য, তখন তিনি বলেছিলেন আমি একটি রিয়ালও গ্রহণ করব না। আল্লাহ আমাকে এই মা’র্বেল কেনার জন্য এবং এটি স’ম্পর্কে ভুলে যাওয়ার জন্য তৈরি করেছেন। এই মা’র্বেল রাসূল (সাঃ) এর ম’সজিদে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর