Logo
শিরোনাম :
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

পটিয়ায় হযরত ওয়াশিল ফকির মৎস্য হ্যাচারীর মাছের  রেনু পোনা যাচ্ছে সারাদেশে  

পটিয়া অফিসঃ / ৩৭৪ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

 

 

-চট্টগ্রামের পটিয়ায়  মাছের  রেনুপোনা উৎপাদন ও  বিকিকিনি সফল  কমল মুন্সি হাট আনসার বিডিপি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়   হযরত ওয়াশিল ফকির মৎস্য হ্যাচারী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এহ্যাচারী মালিক এম. এম. এজাহার কলেজ ছাএ জীবনে লেখা পডা করার সময় যুব উন্নয়ন এক কর্মকর্তার পরিচয় এর পর তার  উদ্ভুদ্ধকরণ  করলে সে মাছের হ্যাচারী করেন গত ৩০ বছর আগে। ইতিমধ্যে সে জাতীয় ও  স্থানী মৎস্য রেনু পোনা উৎপাদনে পুরস্কার গ্রহণন করেন। হযরত ওয়াশিল ফকির মৎস্য হ্যাচারীর মালিক এম এম এজাহার জানান, তার এখানে হালদার এক নম্বর রেনু পোনা ও বড মা -মাছ থেকে   রেনু পোনা

উৎপাদন করে  সারাদেশে বিক্রি করি। সে আরোও জানান, সারা বছর আমার হযরত ওয়াশিল ফকির মৎস্য হ্যাচারীতে বিভিন্ন প্রজাতির রেনু পোনা উৎপাদন হয়ে থাকে। মৌসুম অনুযায়ী মাছ চাষের এবং উৎপাদন করেন  বলে জানান এম এম এজাহার এর বড় ছেলে ইরফান মাহমুদ নিশাদ। এ ব্যাপারে এম এম এজাহার মোবাইল নং   ০১৮১৯- ৩৯১ ৩৬৪- ০১৮১৯- ৮৫৭০০২ যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন। এছাড়াও পটিয়ার খানমোহনা                   রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বিশাল এলাকায় দক্ষিণ ভুর্ষি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম গত ১৫ বছর আগে ব্যাংক লোন  নিয়ে এস জে ফিস হ্যাচারী করেন। বর্তমানে অর্ধশতাধিক পুকুরে মাছ ও মাছের রেনুপোনা উৎপাদনে দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন এবং পটিয়ায় উৎপাদিত রেনু পোনা যাচ্ছে সারাদেশে।এড়াও পটিয়ার রেলওয়ে  স্টেশনসহ বিভিন্ন স্পটে প্রতি বর্ষা মৌসুমের মতো এ বছরও জমে উঠেছে মৎস্য পোনার হাট। প্রতিদিন রাত ১২টার পর রেল স্টেশন, থানাহাট, বিওসি রোড, স্টেশন রোড, ডাকবাংলো, কাচারি পুকুর পাড়জুড়ে বসে মৎস্য পোনার হাট। এখান থেকে মৎস্য পোনা সংগ্রহকারীরা পছন্দের পোনা সংগ্রহ করে চাঁদের গাড়িতে করে নিয়ে যান। প্রতিদিন পটিয়ার পোনার বাজারে দুই থেকে আড়াই  হাজার ভার পোনা বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে এবার করোনা কারণে  এর প্রভাব পড়ার শংকায় রয়েছে মৎস্য খামারীরা। প্রতিটি ভার বিক্রয় করে বিক্রেতারা পেয়ে থাকেন চার-পাঁচ হাজার টাকা। এতে এ পোনার হাটে  প্রতিদিন গড়ে বিক্রয় হয়  ৫০ থকে ৬০ লাখ টাকার পোনা। পোনার হাটে সবচেয়ে বেশি ক্রেতা আসেন কক্সবাজার, মহেশখালী, চকরিয়া, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, মিরাসরাই ফটিকছড়ি  সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। পটিয়ার মাটি ও পানি মৎস্য চাষের উপযোগী হওয়ায় বহুকাল আগে থেকেই এখানে ভালো জাতের পোনা জন্মে। তাই প্রতি বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা পটিয়ায় এসে মৎস্য পোনা বিকিকিনি করে থাকে। রাত যত গভীর হয় মৎস্য পোনা ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনা-গোনায় পটিয়া রেল স্টেশন ও আশপাশের পুরো এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। পোনা ব্যবসায়ী পটিয়ার কমলমুন্সি হাটের হয়রত ওয়াশিল ফকির মৎস্যা হ্যাচারির মালিক এমএম এজাহার  জানান, এ হাটে রুই, কাতাল, মৃগেল, পুঁটি, ঘইন্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা বিক্রয় হয়। একসঙ্গে তিন প্রকার পোনা বিক্রি করে বলে মিইল্ল্যা (মিশান)। দুটি ডেক্সি নিয়ে একটি ভার হয়। এক ডেক্সি পাঁচ কেজি, এক ভারে ১০ কেজি পরিমাণ পোনা ধারণ করা যায়। মিইল্ল্যা (মিশান) প্রতি ভার একহাজার ১৬ শত টাকা। কালিগন্যা কেজি ১ হাজার  সিলভারকার্প কেজি ৮০০ টাকা করে বিক্রি হয়। পোনা ব্যবসায়ী নুরুল আলম জানান, তিনি পটিয়া থেকে পোনা ক্রয় করে রাউজান ও হাটহাজারিতে বিক্রয় করেন। পোনা বিক্রয় করতে পোনার ভার বহন করার জন্য তিনি চারজন লোক নিয়োগ করেছেন। তাঁদের প্রতিদিন ৬০০/ ৭০০ টাকা করে বেতন দেন এবং প্রতি ভার ১০ কেজি করে ৪০ কেজি পোনা ক্রয় করেন, তা বিভিন্ন উপজেলায় বিক্রয় শেষে তাঁর চার-পাঁচ হাজার টাকা লাভ হয়। পরিচালক পটিয়ার খানমোহনা এস জে ফিস জে হ্যাচারীর মালিক দক্ষিণ ভুর্ষি ইউপি চেয়ারম্যান    ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম  জানান, তিনি মনোসেক্স তেলাপিয়া থেকে পোনা বের করে প্রতিদিন পটিয়া উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন। গত বছর তিনি ৫০ লাখ পোনা সরবরাহ করেছিলেন।  আদর্শ মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক সাজ্জাদুল আলম জানান, প্রতিদিন তিনি তাঁর প্রজেক্টের ১৫টি পুকুর থেকে ২০ থেকে ৩০ ভার পোনা বিক্রয়ের জন্য রেল স্টেশনসহ পোনার বাজারে পাঠান। পটিয়া এস জে ফিশের মালিক মোঃ সেলিম চেয়ারম্যান জানান,   ১৫ বছর আগে   তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মৎস্য হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনে হাত দেন। বর্তমানে তাঁর হ্যাচারির ৫০ টি  পুকুরে রয়েছে। এতে   প্রতিদিন মনোসেক্স তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য পোনা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন পটিয়ার পোনার বাজারে তাঁর হ্যাচারি থেকে ৬০ থেকে ১০০ ভার পোনা বিক্রয়ের জন্য নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর প্রতিদিন পোনার চাহিদা এক লাখের উপরে । নুর মোহাম্মদ নামে এক পোনা বিক্রেতা জানান, চলমান বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আশা করি, মৌসুমের শেষে রের্কড পরিমাণ পোনা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারব। এ বিষয়ে পটিয়ার  মৎস্য কর্মকর্তা  জানান, পটিয়ার মাটি ও পানি মৎস্য চাষের জন্য খুবই উপযোগী। যে কারণে এখানের হাজার হাজার পুকুরে রেণু চাষ করে আবার তা রেল স্টেশন সহ বিভিন্ন  স্পটে  পোনার বাজারে বিক্রয় করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মৎস্য প্রজনন হ্যাচারির মালিক। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের এগিয়ে নিতে আমরা সর্বোচ্চ   চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর