Logo
শিরোনাম :
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

ভুল

রিপোটার / ৪০০ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

অতপর বৃষ্টি থেমে গেল।কাব্য কবিতার সরাসরি সামনে এসে দাঁড়াল।কবিতা আড়ষ্ট জড়সড়।কাব্যের অধর যুগলে বিজয়ের হাসি।কবিতার লাজুক লতা মন বজ্রপাতের মত ড্রাম পেটাচ্ছে।সে দিন নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে কাব্যের কন্ঠে রবী ঠাকুরের” অবিনয়”কবিতাটি শুনবার পর থেকে কবিতা কী এক স্বর্গিয় স্বপ্নে কাব্যের চোখে চোখ রাখতে পারেনা।কাব্য হিসাব বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।আর কবিতা সবে মাত্র একই বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হল।এমন দরাজ কন্ঠে যিনি আবৃত্তি করতে পারেন তার বাংলায় ভর্তি হওয়া উচিত ছিল।কবিতা মনে মনে এটিই চেয়েছে।তার স্বপ্নের স্বর্গ দূত আচমকা তার সামনে এসে দাড়াবে,হৃদয়ের সমস্ত ব্যকুলতা দিয়ে অনুনয় করবে” আজি এ বর্ষা বিদুর বাদল দিনে কদম ফুটেছে ডালে,তুমি মোর আরাধ্য কবিতা হয়ে এসো প্রাণে।”কিছুটা প্রতিরোধ কিছুটা ভালবাসায় কাব্যকে পথ থেকে সরাবার বৃথা চেষ্টা করে।কাব্যের হাত দুটি পেছনে একগুচ্ছা বর্ষার কদম ধরে আছে।ইতমধ্যে মেঘ দূত দু এক ফোটা বৃষ্টি ঝরিয়ে গেল।কাব্য হালের প্রেমিকদের মত চাকু নয় কবিতার দিকে কদম ফুল গুলো বাড়িয়ে দিয়ে কিছু একটা বলতে যেয়েও বলতে পারল না।না নেবার সুযোগ কই? কবিতা নিজ হাতে কদমফুল গুলো নিয়ে,বলতে চেয়েছিল”Thank you”কিন্তু কী বলেছে শুনলে অবাক হবেন! বলেছে”I love you”বলে কিছুটা দৌড়ে পালাল কবিতা।মোহ আবিষ্টতা কাব্যকে ঘিরে রেখেছে স্বপ্নের মোর্ছনায়।জানালার গ্রিল টপকিয়ে বিজলী আলো ভিতরে প্রবেশ করছে।কিছুতেই কাব্যের চোখের মোহানায় ঘুম ঘেষঁতে চাইছে না।বারে বারে যেন কেউ ডেকে যাচ্ছে,কাব্য,কাব্য?দুরে ঝিল থেকে ব্যাঙের তর্জন- গর্জন।ঐদিকে কবিতা মেঘের ডানা বেয়ে ইন্দ্রজিতের রাজ পথে কাব্যকে নিয়ে পড়ি দেয় কল্পনার রাজ্যে।আমি রুপ,তুমি অপরুপ আলোঝলম রাতে।রাত বাড়তে থাকে ঘুম ধরা দেয়না কারো চোখে।বয়সি প্যাঁচা অঘোরে ডেকে যায়।সকাল যেন হচ্ছেই না।এমন মোহ আবিষ্টতায় ফোনের রিং বাজতেই কাব্য সম্বিৎ ফিরে পেল।কে,শাহেদ?আসছিরে আসছি।ঘড়ির কাটায়,সকাল ন”টা।কলেজ যাবার প্রস্তুতি।আজ বৃষ্টি নেই।সোনালী রোদ আলো ছড়াচ্ছে।প্রশাসনিক ভবনের সামনে পৌছতেই সেই চোখ যুগল।মনের মনি কোঠায় সুখের মাতম।ক্যান্টিনে সিঙ্গারা ভাগাভাগি করে খাওয়া।কবিতা বলল’ কাব্য ঐ কবিতাটি পারো?
-কোন কবিতা?
– ঐ যে,রবী ঠাকুরের স্বপ্ন ভঙ্গ!
– কেন,কারো স্বপ্ন ভাঙতে চাও নাকি?
– যদি হয় তুমি কি করবে?
– দেখতে চাও?
– না না,তবে আমি যদি মরে যায়,আমার কবর টি নিয়মিত জিয়াফত দিও।
-পাগল।এবার কবিতার বান্ধবী রিতু।
– এই,কবিতা? চলে আয়।চলে যাবে।
দুজনের বিদায়,শুধু মনে মনে ভয় কাল দেখা হবে তো! কাল কি খুব শীঘ্রই আসবে?কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কবিতারা তিন বন্ধবী,কবিতা,রিতু ও জয়া টমটমে চড়ে বসে।কাব্য যাবে কি যাবে না ভাবতে ভাবতে সেও একি টমটমে চড়ে বসে।স্বপ্নের রাজ্যে বিভোর,কবিতা।সামনের সিটে বসা কাব্য থেকে পারফিউমের সুভাষ,অঘুরে কবিতা।কখন যে নিজের গলার ওড়না টমটমের চাকায় প্যাঁচিয়ে যায়,বুঝতেই পারেনি।বিশ্ব রোডের মোড় ঘুরতেই ওড়নার হ্যাচকা টানে রাস্তায় পড়ে যায় কবিতা।মানুষের চিৎকার,উভয় পাশে গাড়ির জ্যাম।কাব্য পাঁজা কোলা করে তড়িত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।কর্তব্যরত ডাক্তার যা বলল,তা কখনো শুনতে চায়নি কাব্য।অতঃপর……

প্রধান শিক্ষক
তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর