Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

করোনার মহা সংকট ও একটি নতুন ভোরের প্রত্যাশা

আবদুল মালেক / ৬৮৩ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

 

করোনাভাইরাসের প্রভাবে পৃথিবী হঠাৎ স্তব্ধ। মহা সংকটে মানব সভ্যতা। করোনার ভয়াল তান্ডব চলছে বাংলাদেশেও। কোভিড-১৯ মহামারী বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ সংহার করছে।এর বাইরেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর নেতিবাচক  প্রভাব পড়েছে শ্রমের মতো কর্মসংস্থানে। সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে আছেন শহরের ছিন্নমূল খেটে খাওয়া মানুষ ও গ্রামের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী। তাদের জমানো সঞ্চয় নেই। দিনের আয়টুকুই ভরসা। তাদের কাছে সামাজিক দূরত্ব বা লক ডাউন মানে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা, প্রিয় সন্তানের অনাহারী মুখ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া।

নিজ সন্তান বা পরিবার যতই অনাহারে থাক না কেন দেশের আইন মানতেই হবে, এটাই নিয়ম। কারণ করোনা সংক্রমণ রোধের পরিক্ষীত পদ্ধতি হলো সামাজিক দূরত্ব কিংবা লক ডাউন। কার্যকরভাবে এই কাজটি করতে পারলে হয়তো করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধ করা যেত। সরকারের শত চেষ্টার পরও করোনা সংক্রমন লাখ পেরিয়েছে। এর পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো বিদেশ ফেরৎ প্রবাসীদেরকে ১০০% কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা যায় নি। কিংবা বিদেশীদের যাওয়া আসা রোধ করা যায়নি। যদিও সরকারের সদিচ্ছার কোন কমতি ছিলনা। দ্বিতীয়ত, সারাদেশে এক যোগে লক ডাউন চলাকালীন সময়ে মানুষ দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কৌশলে যাতায়াত করেছে। দূর পাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকা অবস্থায়ও ঢাকা থেকে কক্সবাজারে লোকজন এসেছে। যদি আমাদের উখিয়ার কথা বলি তাহলে বলতে হয়, এখানে করোনা সংক্রমন দ্রুত বৃদ্ধির অন্যন্য কারণ থাকলেও প্রধান কারণ হলো এনজিও। এনজিওতে চাকুরীজীবি কিংবা চাকুরী প্রত্যাশীরা লক ডাউনের মধ্যেই দেশের বিভান্ন স্থান থেকে উখিয়ায় প্রবেশ করার সুযোগ পায়। প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই তারা কোয়ারেন্টাইন না মেনে যত্রতত্র যাতায়াত বা বিচরণ করেছে ফলে যা হবার তা-ই হলো। কক্সবাজার জেলায় আমাদের স্থান ৩য়। এর পর স্থানীয় কিংবা এনজিও কর্মী বিভিন্ন সময় যারা করোনা ( কোভিড-১৯) পজিটিভ হয়েছে তাদের কেউ কেউ নিয়ম মানলেও অনেকে আইসোলেশন নিয়ম না মেনে যত্রতত্র ঘুরাঘুরি করা শুরু করে দেয়। এতে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আরো বিস্তার লাভ করে। করোনা পজিটিভ রোগীদের পরিচয় গোপন থাকার কারণে বিপদ আরো বেড়েছে বৈ কমেনি।
#করোনায় অভাব বাড়ছে
উখিয়ার মতো দারিদ্র পিড়িত এই জনপদের সরকারি, বেসরকারি, এনজিও চাকরিজীবি ও উচ্চবিত্ত ধনী ছাড়া আর কেউ ভালো নেই। কারণ চাকরিজীবিরা কম হোক বা বেশি হোক প্রতি মাসের বেতন পাচ্ছেন। আর উচ্চবিত্ত বা ধনীরা সংসার চালাচ্ছেন জমানো অর্থ-সম্পদ থেকে। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, নিম্ন বিত্ত বা অতি দরিদ্র কারো অবস্থাই ভালো নেই।। সবাই খেয়ে না খেয়ে কিংবা অনাহারে কোন রকমে দিন যাপন করছেন। করোনার থাবায় ক্ষত বিক্ষত শ্রমিক, দিন মজুর, কুলি, রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী, রিক্সাচালক, ভ্যান বা অটো চালক, কৃষক এদের মতো প্রান্তিক জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সে অনেক আগেই। বাড়ছে দরিদ্র থেকে অতি দরিদ্রের সংখ্যা। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। সকল নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত জনগণ সরকারি ত্রান পায়নি সেটা যেমন সত্য আবার সকলকে ত্রানের আওতায় আনাও সম্ভব নয় এটাও ১০০% সত্য। তবে আশার কথা হলো দেশের অন্যন্য এলাকার মতো আমাদের উখিয়ায় ত্রান নিয়ে নয়-ছয় হয়নি।

মৃত্যুর পাশাপাশি করোনা কেড়ে নিয়েছে অনেকের চাকরী ফলে বেকার হয়ে পড়েছে উখিয়ার শত শত যুবক। করোনা সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানের মহা সংকট। উখিয়ার বিভিন্ন বাজারে কিছু পানের দোকান, চায়ের দোকান, মুদির দোকান সহ বাজার কেন্দ্রীক আরো অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী আছেন যারা এখন মহা বিপদে। পরিচিত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল করোনার এই লক ডাউনে ব্যাবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় নিজের ব্যাবসার পুঁজি থেকেই সংসার খরচ চালাতে হচ্ছে। ফলে তাদের সামনে অন্ধকার ছাড়া কিছুই নেই। অনেকে আবার বড়, মাঝারি বা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ব্যবসায় লগ্নী করেছে। এখন হয়তো লক ডাউনের দোহাই দিয়ে ঋণের কিস্তি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু লক ডাউন শিথিল হলে ঋণের কিস্তি তো দিতেই হবে সুদ সহ। কিন্তু কিভাবে কিস্তি দেবে যেখানে ব্যবসার পুঁজিই শেষ। করোনা পরবর্তী সময়ে নতুনভাবে পুঁজি সংগ্রহ করে ব্যাবসা শুরু করাই তাদের সামনে বড় চ্যালঞ্জ। ঋণের কিস্তি, নতুনভাবে ব্যাবসায় পুঁজি খাটানো, সংসার চালানো এই চ্যালেঞ্জ যদি উতরাতে পারেন তাহলেই তারা নতুনভাবে শুরুর প্রত্যাশা করতে পারে। নতুবা জীবনের মহা সমুদ্রে সাঁতার কাটতে কাটতে কেউ হয়তো তীরে পৌঁছবে আর বাকিরা চোখের জল ও এক বুক হতাশা নিয়ে হারিয়ে যাবে চিরতরে।
তারপরও আমরা আশায় বুক বাঁধি। একে অপরের হাত ধরে উঠে দাঁড়াই। জীবনের ভাগ্যাকাশে হয়তো উদিত হবে নতুন সূর্য। আবারো জেগে উঠবো নতুন ভোরের প্রত্যাশায়।

লেখক :আবদুল মালেক

সহকারী শিক্ষক

উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর