Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

রাউজানে  তিন প্রতারক আটক  :নগদ টাকা ইয়াবা মোবাইল সিম উদ্ধার

রাউজান প্রতিনিধি। / ৩৮২ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

 

কখনো সংসদ সদস্য পরিচয়ে, কখনো সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, আবার কখনো তাদের পিএস, এপিএস পরিচয় দিয়ে অর্থ আদায়-ই তাদের কাজ। এভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সেজে কিংবা তাদের সহকারী পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন প্রতারণা করে আসছিল পটিয়া উপজেলার আশাদা, শোভনদন্ডী হাজী আহমদ সোফার বাড়ির জাফর আহমেদের ছেলে মো. এহসানুল হক প্রকাশ হাসান (২৬) ও তাদের একটি সিন্ডিকেট চক্র। সর্বশেষ রাউজানের এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে বিভিন্নজনের কাছে টাকা আদায় এবং একই পরিচয় দিয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ফোন করে ফেঁসে গেলো প্রতারক হাসান ও তার চক্রটি। শেষ পর্যন্ত হাসান তার দুই সহযোগীসহ ধরা পড়লো জনগণের হাতে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে ইয়াবা নগদ টাকা, মোবাইল সেট ও সিম। প্রতারক হাসান ছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুইজন হলো, চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউপির পশ্চিম এলাহাবাদ দক্ষিণ পাড়ার এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ সুমন (৪০) ও তার স্ত্রী তারানা নাজ শবনম (৪০)।
গতকাল সোমবার দুপুরে থানায় এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন ‘গত রবিবার রাত ৮টার পর রাউজান পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া মাইজপাড়া এলাকায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির নামে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার চেষ্ঠাকালে স্থানীয় জনতা দুই প্রতারককে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। এরপর নোয়াপাড়া পুলিশ সদস্যরা এহসানুল হক প্রকাশ হাসান ও নুরুল আলম প্রকাশ সুমন নামের দুইজনকে ২শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার অবলম্বন ৬টি সিম, তিনটি মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে তাদের কথা-বার্তায় সন্দেহ হলে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারি, তাদের নামে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। এরপর ধৃত আসামী হাসান স্বীকার করে সে ও তার সহযোগীরা গত ১২ জুন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির পিএস পরিচয় দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগকে ফোন করে। এছাড়া ইতিপূর্বে সে ও তার সহযোগীরা ফজলে করিম এমপি, মেজর জেনারেল মাসুদ এমপি, নিজাম হাজারী এমপি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর লিটন, কাউন্সিলর এরশাদ, লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুলসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নজনকে ফোন করে ভয়ভীতি, বিভিন্ন সরল-নরম কৌশল ব্যবহার করে বহুজনের কাছ থেকে অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ আসামীদের নিয়ে প্রতারণার সংগৃহিত টাকা উদ্ধারে হাসানের সহযোগী নুরুল আলম প্রকাশ সুমনের কোতোয়ালী থানার আশরাফ আলী রোডস্থ বাসায় গেলে তার (সুমনের) স্ত্রী তারানা নাজ শবনব বিষয়টি স্বীকার করে বলে যে, বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণার টাকাগুলো আনা হয়। এসময় সুমনের স্ত্রী শবনবকেও আটক করে পুলিশ। এক পর্যায়ে প্রতারক হাসানের সংগৃহিত টাকার সন্ধান জানতে চাইলে তার দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে পটিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় (হাসানের পটিয়া বাড়ির আলমিরার ড্রয়ার থেকে) দশ হাজার টাকা জব্দ করে রাউজান থানা পুলিশ। এই ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং মাদকদ্রব্য আইনে সোমবার রাউজান থানা দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।‘
থানা পুলিশ আরো জানায়, ধৃত আসামীদের সঙ্গে চন্দনাইশ উপজেলার হাজী পাড়ার জনৈক আবু জাফর জুয়েল (৩৩)সহ আরো ৩-৪জন দেশের বিভিন্নস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ করছে। এরমধ্যে প্রতারক চক্রের হোতা হাসান ও সুমনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী, পাঁচলাইশ, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া, মীরসরাই, পটিয়া থানায় প্রতারণা, মাদক, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে ৭টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলন ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন ‘হাসান ও তার প্রতারক সিন্ডিকেট চক্রটি দেশের বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নাম ও এপিএস, পিএস ব্যবহার অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্নস্থানে কয়েকবার ধরাও পড়েছিল। কিন্তু তারা পুণরায় রক্ষা পেয়ে কিংবা জেল থেকে বের হয়ে আবার কোন না কোন সংসদ সদস্যর নামে প্রতারণামূলক কাজ শুরু করে বলে- এমন তথ্য পেয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর