Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র উদ্ধোধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ৩৩৭ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও সরকার যৌথভাবে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কম।

১৮ শয্যার এই আইসিইউ-তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সবচেয়ে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত এই আইসিইউ-তে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ ১০টি আইসিইউ বেড ও ৮টি হাই ডিপেন্ডেন্সি বেড রয়েছে। এরকম স্বাস্থ্যসুবিধা কক্সবাজারে এই প্রথম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সাইমুম সারওয়ার কমল বলেন, “কক্সবাজারবাসীর স্বপ্ন এই আইসিইউ স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ মানের সহায়তা ও সেবা নিশ্চিত করবে। কক্সবাজারের মানুষদের আর চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় যেতে হবে না। আমরা ইউএনএইচসিআর-কে ধন্যবাদ জানাই।”

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “এপ্রিল মাসের শুরুতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের নেতৃত্বে এবং জেলা প্রশাসন ও ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় আমরা এই কাজ শুরু করেছিলাম। এর উদ্বোধনে আমরা খুবই আনন্দিত।”

যখন কক্সবাজার জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তখন মানবিক কার্যক্রমে জড়িত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ সরকারের সাথে মিলে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, “এই আইসিইউ উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হল। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কক্সবাজারের চিকিৎসা সেবা সক্ষমতায় নতুন ধাপ সংযোজিত হল। এই কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

ইউএনএইচসিআর ইতিমধ্যেই কক্সবাজারে দুইটি সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার (সারি আইটিসি) চালু করে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছে। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষ করে এরই মধ্যে ২৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়াও, ইউএনএইচসিআর ও মানবিক কার্যক্রমে জড়িত সংস্থাগুলো সম্মুখ সারির স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রদান করেছে।

সারা বিশ্বে এখন বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি – ৭ কোটি ৯৫ লক্ষ – যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কারণে টেকসই ও স্থায়ী সমাধান আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে; ফলস্বরুপ পৃথিবীজুড়ে শরণার্থীদের জন্য স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও স্বমর্যাদায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে কক্সবাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও আহ্বান করছে বাংলাদেশের প্রতি সাহায্য ও একাত্মতার হাত বাড়িয়ে দিতে। কারণ আমরা কেউই নিরাপদ না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের প্রত্যেকে নিরাপদ।

ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র অপারেশনস কোঅর্ডিনেটর হিনাকো টোকি বলেন, “আজকের এই বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আমরা স্মরণ করি পৃথিবীর সকল শরণার্থীদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের, জীবন ও মর্যাদা রক্ষার লড়াই এবং তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয়কে। আজকের এই সদর হাসপাতালের আইসিইউ উদ্বোধনই প্রমাণ করে এ বছরের বিশ্ব শরণার্থী দিবসের প্রতিপাদ্য “এভরিওয়ান ক্যান মেক আ ডিফরেন্স, এভরি অ্যাকশন কাউন্টস” – অর্থাৎ প্রতিটি কাজই গুরুত্বপূর্ণ আর প্রত্যেকেই পারে পরিবর্তন আনতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর