Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মানসিকতার উন্নতিই মূল উদ্দেশ্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: / ৪৭০ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

 

কোভিট -১৯ সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাংলাদেশের কক্সবাজারে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত সংস্থাগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের পরিধি ইতোমধ্যে বৃদ্ধি করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো নতুনভাবে সজ্জিত করা এবং নতুন নতুন সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন (এসএআরআই-গুরুতর তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ) আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার (আইটিসি) নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের এসব সেবা ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য গুজব এবং ভুল তথ্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত মমতাজ বলেনঃ “এর আগে, আমরা জানতাম না আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারের ভিতরে কী কী আছে। কেন এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল সে সম্পর্কে তথ্যেরও ঘাটতি ছিল।“ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম-জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা) কর্তৃক আয়োজিত আইটিসি সেবা পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করার পর মমতাজ বলেনঃ “এখন আমাদের কাছে আইটিসির অভ্যন্তরে কী কী রয়েছে, তার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে এবং এটি আমাদের জন্য খুব সহায়ক। আমি আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কাছে আমার অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরব যাতে তাদের ধারণাও স্পষ্ট হয়।“পরিদর্শনকৃত টেকনাফের শামলাপুরে ৬০-শয্যাবিশিষ্ট আইটিসি-টি নির্মাণ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এবং আগামী সপ্তাহেই এটি চালু করা হবে। কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সুবিধা সম্পর্কে শরণার্থীদের আশঙ্কা ও দ্বিধা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আইওএম-এর সাইট ম্যানেজমেন্ট এবং সাইট ডেভেলপমেন্ট (এসএমএসডি) শরণার্থীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃতদের নিয়ে আইআরসি-এর এই আইটিসিতে পরিদর্শনের আয়োজন করে।
শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি সর্বোচ্চ পর্যায়ে মেনে পরিদর্শনকারীদের মোট ১৩টি ছোট ছোট দলে বিভক্ত করা হয় (প্রতি দলে ২০ জন)। শামলাপুর শরণার্থী শিবিরের (ক্যাম্প নংঃ ২৩) ধর্মীয় নেতা, মাঝি (কমিউনিটি নেতা), চরম বিপদাপন্ন ব্যক্তি (ইভিআই), নারী এবং কিশোরী, যুবক এবং শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিদর্শনকারীদের বাছাই করা হয় যাতে ব্যক্তিভেদে তারা এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারে। এই ছোট ছোট দলগুলো আইআরসি-এর এই আইটিসির প্রতিটি ব্যবস্থা পরিদর্শন করে। আইওএম, আইআরসি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর কর্মীরা এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন এবং পরিদর্শনকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় থেকে ক্যাম্পে নিযুক্ত ক্যাম্প ইনচার্জ পুলক কান্তি চক্রবর্তী এই পরিদর্শন কার্যক্রম মনিটর করেন এবং ক্যাম্পে এধরণের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
শিবিরের রোহিঙ্গা ধর্মীয় নেতা ওমর বলেনঃ “এই আইটিসি সেবা পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা সবকিছুই দেখেছি এবং বুঝতে পারছি যে এই কেন্দ্রটি রোগী রাখা এবং সেবা প্রদানের জন্য যথেষ্ট ভাল মানের। এখন থেকে আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে এই সেবার তথ্যটি জানাব যাতে তাদের যদি প্রয়োজন হয় তারা যেন এখানে আসতে পারে।“
আইওএম কক্সবাজারের সাইট ম্যানেজমেন্ট এবং সাইট ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর (টেকনাফ) কোনি তাংগারা বলেনঃ “আইটিসি-টি কার্যকর হওয়ার আগে জনগণকে প্রথম দেখার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই সফরটির আয়োজন করা হয়েছিল। এই জনগোষ্ঠীকে অবহিত করা, আইটিসি-এর ভিতরে আইসোলেশন পদ্ধতি বোঝাতে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করার মাধ্যমে জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।“
“ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ এবং সহযোগী সংস্থাদের সাথে মিলে কক্সবাজারে আইটিসি পরিদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর এমন কার্যক্রম আইওএম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে যাতে স্থানীয়দের বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো মাধ্যমে কোভিড-১৯ কার্যক্রমে আরো ভূমিকা রাখা যায়।“


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর