Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

গৃহবন্দি করোনা দিনের ভাবনা

মাহাদি মোহাম্মদ / ২৫৮ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

 

দয়া করে কেউ আমাকে ভুল বুঝবেননা। আমি মনে করি, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় লক ডাউন ই একমাত্র ভাল পন্থা নয়। বিগত কয়েক মাস যাবত এই করোনা নিয়ে কাজ করতে করতে ও দেশি-বিদেশি, ডাব্লিউ এইচও ও আরো বিভিন্ন গবেষণা মূলক লেখা লেখি পড়ে, বিভিন্ন দেশের করোনা মোকাবেলা মডেল নিয়ে পড়ে, আর বাংলাদেশের সত্যিকারের অবস্থা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে করতে এই ভাবনাগুলো নিয়ে আজকের এই লিখা। আমি মনে করি লক ডাউন এর চেয়েও ভাল পন্থা হল; সচেতনতা তৈরি করা ও মানুষকে কে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিধির ব্যাপারে সচেতন করা ও এই সকল স্বাস্থ্য সচেতনতা সমুহ মানুষকে মানাতে অবশ্যই বাধ্য করা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, বড় কোন গ্যাদারিং না করানো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিধি সমুহ পাবলিক প্লেসে (মার্কেট, শপিং মল, গন পরিবহন, ইত্যাদিতে) মানা বা মানতে অবশ্যই ব্যাধ্য করা। তাহলেই ধীরে ধীরে করোনার প্রকোপ কমতে থাকবে আর সময়ের বিবর্তনে এই ভাইরাসের এগেনস্টে মানুষের শরীরে এন্টিবডিও তৈরি হবে। এমনকি আজ পর্যন্ত যতো ভাইরাসের টিকাই দেয়া হোক না কেন, সেটাকে কিন্তু পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়নি। হাম বা বসন্তের টিকা দেয়া হলেও কিন্তু আমাদের সবারই জীবনে একবার না একবার এটি হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য বিধি মেনেছি, মেনে চলেছি ঠিক হয়ে যাচ্ছে। এটা একটা উদাহরণ মাত্র, আমি এটাও জানি যে এই ভাইরাসটা পুরো পুরি হাম বা বসন্তের ভাইরাসের মত নয়। একদমই ভিন্ন। আমি জাস্ট সবাইকে সহজে বোঝার জন্য এটিকে উদাহরণ হিসেবে দিলাম মাত্র।

আচ্ছা যাই হোক, এর পাশাপাশি যে কাজটি আমাদেরকে মাস্ট করতে হবে তা হল, গুড কেইস ম্যানেজমেন্ট। মানে টেস্ট রেজাল্ট দ্রুত করা। (মাইন্ড ও মডারেট কেইস এর ক্ষেত্রে) আক্রান্ত ব্যাক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের সহ তার বাড়িটি ১০০% লক ডাউন করা। যাতে কেউ বাইরে আসতে না পারে নেক্সট ১৪দিন বা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত। প্রয়োজনে তার বাসার সামনে পাহাড়া বসানো (যেহেতু আমাদের মাঝে সব সময়ই একটা টেন্ডেন্সি থাকে নিয়ম ভাঙ্গার)। পাশাপাশি তার যতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য লাগে সেগুলো তাকে কিনে এনে দেয়া, যাতে সে বা সেই পরিবারের কেউ বাইরে যেতে না পারে। প্রয়োজনে (যদি অবস্থা ভাল না থাকে- মডারেট কেইস হলে) তাকে তার পরিবার সহ আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া। সিভিয়ার কেইস এর ক্ষেত্রে তো অবশ্যই আইসোলেশনে নেয়া আর তার পাশাপাশি আই সি ইউ আছে এমন স্থানের কাছাকাছি রাখা। এর সাথে আমাদের কে করতে হবে প্রপার কন্টাক ট্রেসিং। মানে এই আক্রান্ত ব্যাক্তি বিগত ৭ দিনে কার কার সংস্পর্শে ছিল, তাদের সবার ১০০% কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। সেইম, প্রয়োজনে তাদের বাড়িটি ১০০% লক ডাউন করা যেতে পারে (এটা আমাদের দেশের জন্য ভাল, কারন আমরা এখনও এতোটা সচেতন নই)। পাশাপাশি তার যতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য লাগে সেগুলো তাকে কিনে এনে দেয়া, যাতে সে বা সেই পরিবারের কেউ বাইরে যেতে না পারে। আর এই পুরো কাজটি করতে হবে অত্যান্ত মানবিকতার সহিত, আক্রান্ত ব্যাক্তির উপর কোন রকমের রাগ, অভিমান বা ঘৃনা তো কখনই আনা যাবেনা। আর আক্রান্ত ব্যাক্তি ও তার পরিবারকে দিতে হবে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা।

আমার মনে হয় আমরা যদি এই ভাবে এগিয়ে যেতে পারি, এই পুরো কাজটিতে কোনরুপ নয় ছয় না করে, আর দুর্নিতি না করে, আমার মনে হয়, এই ভাইরাস ইনশাআল্লাহ আমরা কিছুটা কন্ট্রোলে আনতে পারব। না হয় এই গদবাধা লক ডাউন শুধু মাত্র আমাদের মতো এই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশকে অনেক অনেক পেছনে নিয়ে যাবে। অলরেডি আমরা ইকোনমিক ইম্পাক্ট দেখছি। তাছাড়া আমাদের দেশের এতো দিনের অর্থনৈতিক অর্জন অনেকাংশেই পিছিয়ে যাবে। শ্রমিক কাজ হারাচ্ছে, মানুষ ব্যাবসা বানিজ্য নিয়ে পথে বসে যাচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে আমরা শুধু মাত্র মনের শান্তির জন্য লক ডাউন নিয়ে লাফাতে পারব, কিন্তু এই ডিজিসটা কন্ট্রোলে আসবে না। আসুন আমরা এই ডিজিসটাকে কন্ট্রোলের আনার ব্যাপারে কাজ করি।

আর এর পাশাপাশি, দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যাবস্থার উন্নয়নে তো কাজ করতে হবেই, আর এটা সময় সাপেক্ষ কাজ।কোন ভূল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি আমার লেখায় ইচ্ছাকৃত ভাবেই, মেডিকেল ম্যানাজমেন্ট নিয়ে কথা বলিনি, কারন এটা আমাদের দায়িত্বনা। যেটা আমারা সাধারণ হিসেবে করতে পারি শুধু সেটুকুই বললাম।

মাহাদি মোহাম্মদ
হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কার,
ফ্রি ল্যান্স জার্নালিস্ট, ভ্লগার ও ব্লগার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর