Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

প্রস্তাবিত বাজেট সাদামাটা অবাস্তবায়নযোগ্য কল্পনাপ্রসূত : ফখরুল

উখিয়া কন্ঠ  ডেস্ক / ২৩২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট একেবারেই সাদামাটা ও অবাস্তবায়নযোগ্য একটি কল্পনাপ্রসূত বাজেট। এই মহাদুর্যোগকালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্বল বরাদ্দ দেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞসহ গোটা জাতিকে হতাশ করেছে। চলমান মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি ‌আপদকালীন ‘বিশেষ করোনা বাজেট’ হয়নি বলে মনে করে বিএনপি। রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আনুষ্ঠানিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, করোনা পরিস্থিত কাটিয়ে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই প্রস্তাবিত এই বাজেটে। বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য প্রত্যাশিত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। একইসাথে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কার্যকর সুশাসন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

এত বড় বাজেটকে কেন সাদামাটা বলছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য যেসব খাতকে অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন, তা এ বাজেটে নেই। তাদের চিন্তাই হচ্ছে নিজেদের লোকদের তুষ্ট করে তাদের পকেট ভারি করা।

বাজেট মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বাজেটের আয়-ব্যয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ বাজেটে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরকেই মোট বাজেটের ৫০ শতাংশের অধিক আয় করতে হবে যার পরিমাণ ৩ কোটি ৩০ হাজার কোটি টাকা। এটি বাস্তবতাবিবর্জিত। এনবিআর এই রাজস্ব আহরণ করতে ব্যর্থ হবে এবং তাতে বেড়ে যাবে বাজেট ঘাটতির পরিমাণও। ব্যাংকগুলোর পক্ষে প্রস্তাবিত Deficit inancing-এর ৮৫ হাজার কোটি টাকা জোগান দেয়া সম্ভব হবে না। এনবিআরের ব্যর্থতা ও ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঘাটতি অর্থায়নে অক্ষমতার কারণে বাজেট মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।

স্বাস্থ্যের বরাদ্দে হতাশ

বিএনপি মহাসচিব স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ জাতিকে হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করে বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ করোনা মহামারিতেএকেবারেই ঠিক নেই। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে বরাদ্দ আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল । কিন্তু সরকার করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে বরাদ্দের প্রস্তাব করলেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ পরিমাণ একেবারেই যথেষ্ট নয়।

দুর্নীতির জন্য বিদ্যুতে এত বরাদ্দ

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যেসব প্রকল্প নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, বাজেটে সে প্রকল্পগুলোকেই সরকারের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরিবহন, বিদ্যুৎ খাতসহ অনেক খাতে বেশি পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা এ মুহূর্তে প্রয়োজন ছিল না। সরকারি ভাষ্যমতে, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ২০ হাজার ২৭৯ মেগাওয়াট। তাই এই অসময়ে তোড়জোড় করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের কোনো দরকার ছিল না। ১২০০ মেগাওয়াটের রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকায় দেশের সবচেয়ে একক ব্যয়বহুল চাপযুক্ত জল-চুক্তি প্রকল্প, যা রাশিয়ান এক কোম্পানি কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দিয়ে সেই অর্থ স্বাস্থ্য খাতসহ কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা যেত। তা করা হয়নি, কারণ রূপপুর কেন্দ্রের দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে চায়নি সরকার।

কল্পনাপ্রসূত জিডিপি

অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার ৮ দশমিক ২ শতাংশকে কল্পনাপ্রসূত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, আমদানি, রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান প্রভৃতি সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো আলোচনা করলেই স্পষ্ট যে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত। বিনিয়োগ দরকার ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশ, যা কঠিন এবং অসম্ভব। জিডিপি ও রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দৃশ্যমানভাবেই প্রতারণার শামিল।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা নিষ্ঠুরতা

৩০ জুনের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সরকারি সিদ্ধান্তকে নিষ্ঠুরতা বলে মন্তব্য করে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বাজেটের কিছু প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি করে বলেন, ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার ওপরে রাখলেই ৩ হাজার টাকা, এক কোটি টাকার ওপরে থাকলে ১৫ হাজার টাকা কর দিত হবে। এতে আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সংকটকালে অনলাইন বেচাকেনা এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আরও ৫ শতাংশ বাড়ানো সঠিক হবে না। বাজেটে স্বর্ণের দাম হ্রাসের প্রস্তাবে জুয়েলারি দোকানের লবি এবং বিত্তবানরাই লাভবান হবে।

সূত্র :দৈনিক পূর্বকোণ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর