Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

উখিয়ায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে ছেলের হাতে মা ও ভাই আহত

এম.কলিম উল্লাহ, উখিয়া: / ২৩৯ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড খেওয়াছড়িতে ছেলে ও পুত্র বধুর দা’এর আঘাতে মা ও ভাই আহতের ঘটনা ঘটেছে।

গত শনিবার (২৩ মে) বেলা ১টায় খেওয়াছড়ি মুনিরুজ্জামান শিকদার এর বাড়ির পাশে নিজ গৃহে পারিবারিক কলহের জেরে পুত্র ও পুত্রবধুর দা’এর কোপের আঘাতে গর্ভধারিনী মা চেমন বাহার (৬০) ও ছোট ভাই রফিক উদ্দিন রুবেল (২৫) গুরুতর আহত হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জানা যায় হলদিয়া পালং ইউনিয়নের খেওয়াছড়ি গ্রামের ফরিদুল আলম(৬৭)ও স্ত্রী চেমন বাহার(৬০) সাংসারিক জীবনে ৬ পুত্র ও কন্যা সন্তানের পিতা মাতা। পুত্র-কণ্যাদের বিয়ে দিয়ে তারা উভয়ে শান্তিতে ঘর সংসার করে আসলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বামী ফরিদুল আলমের দ্বিতীয় বিয়ে করার শখ জাগে। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-পড়শি, সন্তানদের বুঝাবুঝিতে এই বুড়ো বয়সে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকে ৬ সন্তানের পিতা ফরিদুল আলম। বিয়ে পাগল ফরিদুল আলম দু’দিন যেতে না যেতেই আবারো সেই বিয়ের কথায় স্ত্রীকে মারধর করে মেজো ছেলে আবুল কালামের বাসায় উঠে। মেজো ছেলে আবুল কালামকে তার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি পত্র নেওয়ার জন্য তার সহায়-সম্বল লিখে দেওয়ার প্রস্তাব করে।
উম্মাদ ও লোভি বখাটে আবুল কালাম ও তার স্ত্রী আমিনা বেগম এবং তার পিতা ফরিদুল আলম সহ গত শনিবার দুপুরে চেমন বাহারের ঘরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাতে হাতের কনুইয়ে, পায়ের উরুতে, মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত ও জখম হয়। এতে মাকে তাদের হামলার কবল থেকে ছোট ছেলে রফিক উদ্দিন রুবেল উদ্ধার করতে গেলে তাকেও কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে একপর্যায়ে ঘুষিতে চোখ রক্তাক্ত হয় । এতে গুরুতর আহতাবস্থায় আহতদের স্থানীয়রা বউ পাগল ফরিদুল আলম ও আবুল কালাম ও তার স্ত্রী আমিনা বেগমের কবল থেকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বৃদ্ধ বয়সে মানসিক ভারসাম্যহীনতার সাথে ছেলে ও পুত্র বধুর উস্কানিতে তিনি প্রায়ই দ্বিতীয় বিয়ে কথা বলে গালমন্দও শারীরিক নির্যাতন করিত বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী চেমন বাহার। এমতাবস্থায় চেমন বাহার ছোট ছেলে রফিক উদ্দিন রুবেলের সাথে আলাদা বাড়িতে বসবাস করে আসছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য আবুল কালাম টেকনাফ উপজেলার হাজম পাড়া থেকে বিয়ে করার সুবাদে ছোট ভাই রফিক উদ্দিন রুবেল ও মা চেমন বাহারকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল করিম মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ ধরনের কোন ঘটনা শুনিনি এবং আমি তাদের সকলকে চিনি আমি সংঘটিত ঘটনার খবর নিচ্ছি।
ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওই এলাকায় এই ধরনের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে একে অপরকে কথায় কথায় ইয়াবা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে আমি ও শুনেছি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিতে উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করিলে আসামি ফরিদুল আলম, আবুল কালাম ও স্ত্রী আমিনা বেগম। বাদী চেমন বাহার ও ছোট ছেলে সাক্ষী রফিক উদ্দিন রুবেল কে পুনরায় মারধর, খুন করে লাশ গুম করা ও ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করায় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন আহত চেমন বাহার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর