Logo
নোটিশ :

আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বগতম>>তথ্য নির্ভর সংবাদ পেতে  সাথে থাকুন  ধন্যবাদ।

আসছে ‘আম্পান’, আতঙ্কে আশ্রয় ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা

উখিয়া কন্ঠ রিপোট / ১৩৯ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

 

বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। ভয়াবহ এই ঝড়ে উপকূল এলাকায় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ও অতি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় উখিয়া-টেকনাফের পাহাড় ও বন কেটে উজাড় করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বেশ আতঙ্কে আছেন। তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল থেকে কক্সবাজারের টেকনাফে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা, দ্বীপ ও চরগুলোতে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষা করতে জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মাহাবুব তালুকদার জানান, ‘ইতোমধ্যে সব রোহিঙ্গা শিবিরের লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের দুর্বল ঘরগুলো বাঁশ ও রশি টানিয়ে মেরামতের কাজ চলছে।’

তিনি আরও জানান, ক্যাম্পে যেহেতু বড় ধরনের কোনও গাছপালা নেই, ফলে সেখানে দুঘর্টনার সুযোগও নেই। তবে ক্যাম্পে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রেডক্রস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দমকল বাহিনী বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মী বাহিনীসহ রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব মিলিয়ে ৩ হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভেলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘ঘূণিঝড় বিষয়ে ক্যাম্পের মসজিদে মাইকিং করে সবাইকে সর্তক করা হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদে সরিয়ে রাখার জন্য লার্নিং সেন্টারসহ মসজিদ মাদ্রাসাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থারা সহযোগিতা করছে।’

উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক বলেন, যারা পাহাড়ের খাড়া ঢালে ঘর তুলেছে, তারা ঘূর্ণিঝড় আসার খবরে ভূমিধসের ভয়ে আছেন। আর যারা নিম্নাঞ্চলে থাকছে, বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। তাছাড়া মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে।

টেকনাফের ২৫, ২৬ ও ২৭ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত আনতে পারে এমন আশঙ্কার খবর ক্যাম্পে প্রচার হওয়ার পর থেকে লোকজনের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কারণ তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪১ হাজার মানুষ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। নিরাপদ স্থানে আশ্রয় না নিলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বাতাস শুরু হয়েছে। তবে নিজ দায়িত্বে বাঁশ ও রশি দিয়ে দুর্বল ঘরগুলোর মেরামত কাজ চলছে।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থিত মসজিদ, লার্নিং সেন্টারসহ আশপাশের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রলোতে অবস্থান নিতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগে অবহেলা না করে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান’ এর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেরও খোঁজ রাখা হচ্ছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর মুখপাত্র মোস্তফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ডিসি, আরআরআরসি এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে কাজ করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পের গুদামগুলোতে খাদ্য ও জলসহ জরুরি সেবা প্রদানের প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকও প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় স্থানীয় ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে রামু সেনানিবাস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর